ভোটগণনার আগে ধুন্ধুমার! পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তৃণমূল!

ভোটগণনার প্রহর যত এগিয়ে আসছে, ততই পারদ চড়ছে রাজ্য রাজনীতিতে। এবার উত্তর কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে পোস্টাল ব্যালট ‘নাড়াচাড়া’ এবং নিরাপত্তার গাফিলতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ এতটাই গুরুতর যে, স্বয়ং ডেরেক ও’ব্রায়েন নালিশ জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে।

অভিযোগের তির কোথায়?
তৃণমূলের দাবি, গত ৩০ এপ্রিল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটের কভার বাছাই করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় প্রার্থী বা তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, এটি নির্বাচন কমিশনের হ্যান্ডবুকের ১১.২১.৬ ও ১১.২১.৭ নম্বর অনুচ্ছেদের চরম লঙ্ঘন। শুধু তাই নয়, এটি ১৯৬১ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধি এবং ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনেরও পরিপন্থী।

প্রমাণ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ:
শাসক দল কেবল অভিযোগ তুলেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা দাবি করেছে যে সিসিটিভি ফুটেজে এই অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এই ফুটেজ ইতিমধেই কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, রাজ্যের একাধিক গণনাকেন্দ্রে একই ধরনের গাফিলতি ধরা পড়ছে, যা অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের পরিবেশকে কালিমালিপ্ত করছে।

মাঠে নামলেন মমতা ও শশী পাঁজা:
বৃহস্পতিবার রাতে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যখন ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে বহিরাগতদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজা। তিনি নিজের পরিচয়পত্র দেখিয়ে সরাসরি স্ট্রংরুমের ভেতরে ঢুকে আধিকারিকদের জেরা করেন। অন্যদিকে, ভবানীপুরের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খোদ সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুমের বাইরে টানা চার ঘণ্টা ঠায় বসে থেকে নজরদারি চালান।

কমিশনের কাছে তৃণমূলের দাবি:
তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি—অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করতে হবে এবং দোষীদের শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি, প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখার অনুমতি দিতে হবে এবং প্রতিটি পোস্টাল ব্যালট কভার যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে।

আগামী ৪ মে সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। তার আগে রাজ্যজুড়ে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। তবে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে এই আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক চাপানউতোর গণনার আগে এক নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy