ভুয়ো ভোটার রুখতে ‘লক্ষ্মণরেখা’ টানল কমিশন! বোরখা-ঘোমটার আড়ালে প্রক্সি ভোটিং কি এবার অতীত?

বঙ্গে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক ৭২ ঘণ্টা আগে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। এবার বোরখা, স্কার্ফ বা ঘোমটায় মুখ ঢাকা থাকলে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের আগেই বাধ্যতামূলকভাবে মুখ দেখাতে হবে। ১৯৯৪ সালের পর এই প্রথম বাংলায় প্রক্সি ভোটিং রুখতে এত বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কমিশন।

১০০ মিটার দূরেই ‘ফেস ভেরিফিকেশন’! কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বুথের ১০০ মিটার বাইরেই তৈরি করা হবে বিশেষ কাউন্টার। সেখানে বোরখা বা অন্য কোনো আবরণে মুখ ঢাকা মহিলা ভোটারদের নিজের পরিচয় যাচাই করাতে হবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই তাঁরা বুথের ভেতরের দিকে এগোতে পারবেন। এই তল্লাশি এবং যাচাইয়ের কাজে কোনো পুরুষকর্মী থাকবেন না। শুধুমাত্র অঙ্গনওয়াড়ি সেবিকা, মহিলা পোলিং অফিসার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর মহিলা সদস্যরাই এই দায়িত্ব সামলাবেন।

কেন এই কড়াকড়ি? দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল, স্পর্শকাতর বুথগুলোতে বোরখার আড়ালে পরিচয় লুকিয়ে ‘প্রক্সি ভোটিং’ বা একজনের বদলে অন্যজন ভোট দিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই অনিয়ম রুখতেই এআই (AI) সার্ভেইল্যান্স এবং বডি ক্যামেরার পাশাপাশি এবার এই ‘ফেস ভেরিফিকেশন’ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। মূলত মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং দুই ২৪ পরগনার মতো এলাকাগুলোতে বিশেষ নজর থাকবে কমিশনের।

শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা: কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই পারদ চড়েছে রাজনৈতিক মহলে।

  • তৃণমূলের ক্ষোভ: শাসকদলের দাবি, এটি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মহিলাদের টার্গেট করার চেষ্টা। এতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে এবং ভোটাররা ভয় পেতে পারেন।

  • বিজেপির প্রশংসা: অন্যদিকে পদ্ম শিবিরের বক্তব্য, ভোট চুরির দিন শেষ করতে এই স্বচ্ছতা অত্যন্ত প্রয়োজন। আসল ভোটাররাই যাতে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করবে এই পদ্ধতি।

কমিশনের সাফাই: নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “পরিচয় যাচাই করা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নয়। ভোটারদের গোপনীয়তা ও সম্মান বজায় রেখেই স্থানীয় মহিলা আধিকারিকদের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া চালানো হবে।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy