২০১৭-র আগে অযোধ্যাকে ঘিরে কোন কুৎসিত রাজনীতি চলত? দীপাবলির ঠিক আগে পর্দাফাঁস মুখ্যমন্ত্রীর!

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি তথা সমগ্র দেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক আঙিনায় আবারও এক ঐতিহাসিক এবং অখণ্ড বার্তার জন্ম দিল অযোধ্যার মহা সমারোহে অনুষ্ঠিত দীপ উৎসব। উৎসবের এই পবিত্র প্রাক্কালে রাজ্যবাসীকে বিশেষভাবে অবহিত করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এক অত্যন্ত জোরালো বার্তা দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই রাজকীয় দীপ উৎসব কেবল আলো বা প্রদীপের উৎসব নয়, এটি উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি মানুষের কাছে এক সুদূরপ্রসারী ও অনুপ্রেরণামূলক ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেয়। নিজের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ (প্রাক্তন টুইটার) মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত তাত্ত্বিক ও মার্জিত ভাষায় লিখেছেন যে, সংকীর্ণ জাতিগত জড়তা এবং বিভেদকামী মানসিকতা সর্বদা সমাজকে টুকরো টুকরো করে বিভক্ত করে, পক্ষান্তরে অভিন্ন বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং মেলবন্ধন সমাজকে মজবুত সুতোয় একতাবদ্ধ করে তোলে। অযোধ্যার এই বিশ্বখ্যাত দীপ উৎসব সেই সুদৃঢ় সামাজিক ঐক্যেরই এক জীবন্ত ও অনন্য নিদর্শন।
বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন যে, ২০১৭ সালের পূর্বে উত্তরপ্রদেশে যে সমস্ত সরকার ক্ষমতায় আসীন ছিল, তারা জাতপাত ও বিভেদের রাজনীতিকেই নিজেদের ক্ষমতার মূল ভিত্তি বানিয়েছিল। সেই ক্ষমতালোভী সরকারগুলো সমাজকে সুসংহতকারী এই মহান সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তিকে সম্পূর্ণ অবহেলা ও উপেক্ষা করেছিল। এর সম্পূর্ণ বিপরীতে দাঁড়িয়ে বর্তমান ডাবল ইঞ্জিন সরকার ২০১৭ সালে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে ঐতিহাসিক দীপ উৎসবের সূচনা করে এই পুরনো, ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারাকে চিরতরে বদলে দিয়েছে। অযোধ্যা তথা রামনগরীর প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আজ তারা শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আপামর জনগণের উৎসবে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁর বাণীতে আরও উল্লেখ করেছেন যে, দেশের শ্রদ্ধেয় সাধু-সন্ত এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ ও সুদূরপ্রসারী নির্দেশনায় আজ এই মহা আয়োজনে ধর্মীয় নেতা, সাধারণ ছাত্রছাত্রী, সাফাই কর্মী, কুমোর থেকে শুরু করে ছোট-বড় ব্যবসায়ী—সর্বস্তরের মানুষ সমান উৎসাহ, উদ্দীপনা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অংশগ্রহণ করছেন। এই উৎসবে মানুষের আসল পরিচয় কোনো নির্দিষ্ট জাতি, বর্ণ বা সম্প্রদায় দিয়ে নির্ধারিত হয় না, বরং নির্ধারিত হয় এই মহোৎসবে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। প্রদীপ হয়তো ভিন্ন ভিন্ন মানুষের হাতে জ্বলে ওঠে, কিন্তু সেই প্রদীপের পবিত্র আলো সমগ্র সমাজ ও সম্প্রদায়কে একত্রিত করে। আর এটাই হলো সনাতন আলোর উৎসবের মূল অন্তর্নিহিত বার্তা। একটি সুন্দর, সম্প্রীতিপূর্ণ ও শক্তিশালী সমাজ গঠনের এটাই হলো প্রকৃত ধারণা।