ভিডিও থেকে জুম—আইফোনকে সরাসরি টেক্কা দিচ্ছে স্যামসাং ও গুগল, সেরা ক্যামেরা ফোনের তালিকায় এগিয়ে কে?

একসময় স্মার্টফোনের দুনিয়ায় সেরা ক্যামেরা মানেই ছিল আইফোনের একচ্ছত্র আধিপত্য। ভিডিও রেকর্ডিং, নিখুঁত স্কিন টোন, দ্রুত অটোফোকাস এবং দুর্দান্ত ভিডিও স্টেবিলাইজেশনের ক্ষেত্রে অ্যাপল ছিল সবার সেরা। তবে ২০২৬ সালে এসে সেই ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। স্যামসাং, গুগল, শাওমি, ওপ্পো এবং ভিভোর মতো শীর্ষস্থানীয় অ্যান্ড্রয়েড ব্র্যান্ডগুলি এখন বড় ক্যামেরা সেন্সর, অত্যাধুনিক টেলিফটো লেন্স এবং শক্তিশালী এআই প্রসেসিং নিয়ে হাজির হয়েছে। ফলে বর্তমান ফ্ল্যাগশিপ অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলি অনেক ক্ষেত্রেই আইফোনের চেয়েও বেশি সুবিধা দিচ্ছে।
অ্যাপল আইফোনের বর্তমান শক্তি:
লেটেস্ট আইফোন ১৭ প্রো মডেলে ৪৮ মেগাপিক্সেলের মেইন, আল্ট্রা-ওয়াইড এবং টেলিফটো সেন্সর রয়েছে। DXOMARK-এর পরীক্ষা অনুযায়ী, আইফোন ১৭ প্রো-এর ভিডিও পারফরম্যান্স দারুণ। এক্সপোজার, ডায়নামিক রেঞ্জ, কালার রিপ্রোডাকশন এবং জুমিংয়ে এটি চমৎকার ফল করে। তবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোও এখন এই মানের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
১. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা:
অ্যান্ড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপ ক্যামেরার বাজারে এটি বর্তমানে শীর্ষস্থানীয়। এতে ২০০ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি ক্যামেরা, ৫০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড এবং দুটি টেলিফটো লেন্স রয়েছে, যা ৩x ও ৫x অপটিক্যাল জুম এবং ১০০x ডিজিটাল জুমের সুবিধা দেয়। দূরের ছবি তোলার জন্য এটি দারুণ কার্যকরী এবং এতে কম আলোতেও ডিটেইলিং ও নয়েজ কন্ট্রোল অনেক উন্নত হয়েছে।
২. গুগল পিক্সেল ১০ প্রো এক্সএল:
কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফির জন্য পিক্সেল অতুলনীয়। ৫০ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরার পাশাপাশি এতে ১০০x প্রো জুম, নাইট সাইট এবং অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফির মতো ফিচার রয়েছে। রিয়েল টোন এবং বেস্ট টেকের মতো এআই ফিচারের সাহায্যে এটি মানুষের স্কিন টোন খুব স্বাভাবিক রাখে।
৩. শাওমি ১৭ আল্ট্রা:
হার্ডওয়্যারপ্রেমীদের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত অপশন। এতে ৫০ মেগাপিক্সেল মেইন, ২০০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড এবং ৫০ মেগাপিক্সেল টেলিফটো ক্যামেরা রয়েছে। এটি অত্যন্ত নিখুঁত ডিটেইলিং এবং প্রাকৃতিক রং ফুটিয়ে তোলে।
৪ ও ৫. ওপ্পো ফাইন্ড এক্স৯ আল্ট্রা ও ভিভো এক্স৩০০ আল্ট্রা:
বড় সেন্সর এবং উন্নত অপটিক্যাল সিস্টেমের সাহায্যে ওপ্পো ও ভিভো আইফোনকে সরাসরি টেক্কা দিচ্ছে। পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফি এবং কম আলোতে ছবি তোলার জন্য এই দুটি ফোন DXOMARK র্যাঙ্কিংয়ে সর্বোচ্চ স্কোর অর্জন করেছে।
কোন ক্যামেরাটি সেরা, তা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের ওপর। ভিডিওর জন্য আইফোন সেরা হলেও, জুমের জন্য স্যামসাং, রাতের ছবির জন্য পিক্সেল এবং এআই এডিটিংয়ে গুগল এগিয়ে রয়েছে।