চিকিৎসার আগেই মৃত্যুপুরী কঙ্গো! ইবোলার বুন্দিবুগিও স্ট্রেনের দাপটে হু হু করে বাড়ছে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা

ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি)-র ইবোলা মহামারী। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণে ইতিমধ্যেই ৪,০১৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়েছে প্রায় ৮,৩০০। বর্তমানে দেশের অন্তত সাতটি প্রদেশের ৬৩টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি বছরের ১৫ মে নতুন করে এই প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করার পর থেকেই পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত অবনতির দিকে গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেনের এই আক্রমণ কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং প্রাণঘাতী মহামারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা এর আগের ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে গেছে।
তবে সংক্রমণ প্রতিরোধের এই লড়াইয়ে প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পূর্ব কঙ্গোর দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, ভঙ্গুর পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে চলা লাগাতার সংঘর্ষের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আক্রান্তদের কাছে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যেই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে বুনিয়া অঞ্চলের একটি মর্মান্তিক ঘটনা। ইটুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ার উপকণ্ঠে ইবোলা আক্রান্তদের জন্য নির্মিত একটি ট্রানজিট ক্যাম্প চলতি সপ্তাহে রহস্যজনকভাবে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্র তল্লাশির সময় সেনার অভিযানে ক্যাম্পটি পুড়ে যাওয়ায় সেখানকার প্রায় ১৯ হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
শুধু পরিকাঠামো বা নিরাপত্তাহীনতাই নয়, স্থানীয় সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের প্রতি প্রবল অবিশ্বাসও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পথে এক বিরাট প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইবোলা সচেতনতা প্রচারের সময় এক রাজনৈতিক নেতার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে নতুন সংক্রমণের হার কিছুটা হ্রাসের ইঙ্গিত মিললেও, গবেষকরা একে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দেখছেন। কারণ সংঘর্ষ ও নিরাপত্তাহীনতার জেরে অনেক তথ্যই ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে না। সবচেয়ে বড় কথা, ইবোলার এই নির্দিষ্ট স্ট্রেনের বিরুদ্ধে এখনও কোনও নির্দিষ্ট ও অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বর্তমান উপলব্ধ টিকাগুলি নতুন স্ট্রেনে কতটা কার্যকর, তা নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে। তবে কঙ্গোর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী দেশগুলিতেও এই মহামারী ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্কবার্তায় জানিয়েছে হু।