পরীক্ষাহলের সেই ১৫ মিনিটেই সব শেষ! আইআইটি বোম্বে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় অধ্যাপককে টানা ১০ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরা ক্রাইম ব্রাঞ্চের

আইআইটি বোম্বের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাহিল ওয়াকোড়ের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে বড় মোড় এসেছে। পরীক্ষাহলে ঠিক কী এমন ঘটেছিল, যার জেরে হস্টেলে ফিরে ওই ছাত্র মর্মান্তিক পদক্ষেপ করতে বাধ্য হলেন—এই রহস্যের জাল ভেদ করতে আইআইটি বোম্বের অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে জেরা করেছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর মিড-সেমিস্টার চলাকালীন ফোন ব্যবহারের অভিযোগে সাহিলকে হাতেনাতে ধরার পরই পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছিল বলে অভিযোগ।
মৃত পড়ুয়ার পরিবারের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসাররা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ৩০ থেকে ১২টা ৪৫—এই সংবেদনশীল ১৫ মিনিটের ঘটনার ওপর। অধ্যাপক ও সাহিলের মধ্যে ঠিক কী কথোপকথন হয়েছিল এবং কেন তাঁকে পরীক্ষা মাঝপথে থামিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, সাহিলের পরিবারের তরফ থেকে তোলা জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য ও মানসিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ নিয়েও অধ্যাপককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে সূত্রের খবর, জেরার মুখে সমস্ত কুরুচিকর মন্তব্য ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক দুল্লা।
তদন্তকারীরা অধ্যাপকের বয়ানের সঙ্গে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য মেলাতে শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, সাহিলের দুটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাব ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও পুলিশ গভীর তদন্ত চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে সাহিলের বাবা-মা, সহপাঠী ও হস্টেল কর্মীসহ প্রায় ৪৫ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই আইআইটি বোম্বের ডিরেক্টর শিরীষ কেদারেকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে।
এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আইআইটি বোম্বে ক্যাম্পাস। বিগত ১৫ দিন ধরে লাগাতার প্রতিবাদের পর ন্যায়বিচারের দাবিতে শুক্রবার থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সাহিলের শোকস্তব্ধ বাবা-মাও মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানে অনশনে বসেছেন। আন্দোলনকারী ছাত্ররা প্রতিষ্ঠানের মূল গেটে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ১৮ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তাঁদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার, আইআইটি বোম্বের ডিরেক্টর শিরীষ কেদারের পদত্যাগ এবং অভিযুক্ত অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লার অবিলম্বে বরখাস্ত। আইআইটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতদিন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ও সন্তোষজনক আশ্বাস মিলবে না, ততদিন এই আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুংকার দিয়েছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।