ভিড়ে ঠাসা ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু, গাফিলতির দায়ে রেলকে ৮ লাখ দিতে হবে! বিচারপতি হিমাংশু জোশির ঐতিহাসিক রায়!

সুদীর্ঘ ১৯ বছর পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল এক পুত্রহারা পরিবার। ২০০৬ সালে ভিড়ে ঠাসা ট্রেন থেকে পড়ে গুরমিত সিং নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষকে মৃতের পরিবারকে ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। এই মর্মান্তিক ঘটনার পিছনে রেলের চূড়ান্ত অবহেলাকে দায়ী করেছে আদালত।
অবৈধ যাত্রী নিয়ন্ত্রণে গাফিলতি: মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারপতি হিমাংশু জোশি তাঁর রায়ে রেলের কর্তব্যে গাফিলতি স্পষ্ট করেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আইনত টিকিটধারী যাত্রীর জীবনে অনাবশ্যক বিপদ ডেকে আনে টিকিটহীন যাত্রীরা। আর এই টিকিটহীন যাত্রী নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণত ব্যর্থ হয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ, তাই এই মৃত্যুর জন্য পুরোপুরি রেল কর্তৃপক্ষই দায়ী।
আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায়, বৈধ টিকিটধারী যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাত্রী নিয়ন্ত্রণ করা রেলের কাজ ও সাংবিধানিক কর্তব্য। এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র গাফিলতি বরদাস্ত করা যায় না, বিশেষত যদি তার জন্য কোনও নিরীহ ব্যক্তিকে প্রাণ দিয়ে মূল্য চোকাতে হয়।
রেলের যুক্তি খারিজ: রেল কর্তৃপক্ষ আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে, মৃত গুরমিত সিং বৈধ যাত্রী ছিলেন না। বিচারপতি জোশি রেলের এই যুক্তি খারিজ করে দেন। আদালত জানায়, কারও টিকিট না পাওয়া গেলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না যে তাঁর কাছে টিকিট ছিলই না বা তিনি অবৈধ যাত্রী ছিলেন।
মামলার পটভূমি: ২০০৬ সালের নভেম্বরে গুরমিত সিং দুর্গে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ট্রেনে প্রবল ভিড় ও ঝাঁকুনির কারণে তিনি চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারান। তাঁর বাবা বিজয় সিং গৌর প্রথমে রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনালে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করেন। সেই ট্রাইব্যুনাল ২০১১ সালে তাঁর আবেদন নাকচ করে দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
রেলের জনসেবামূলক কাজ ও সাংবিধানিক কর্তব্যের উপর জোর দিয়ে হাইকোর্টের এই রায় দেশের ট্রেন যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলল।