নৈহাটির করাচি-কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সীমান্তবর্তী গোবরডাঙায় প্রকাশ্যে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। একটি ঢালী পরিবারের সদস্যদের নাম একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের দুই ভোটার তালিকাতেই রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। গোবরডাঙার ঢালী পরিবার প্রায় দশ বছর ধরে ভারতে বসবাস করলেও, সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকায় দেখা গেছে, একই পরিবারের সদস্যদের নাম সাতক্ষীরা জেলার তালিকাতেও রয়েছে।
দ্বৈত পরিচয়ে তোলপাড়
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢালী পরিবারের সদস্যরা মূলত বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় এক দশক আগে তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে আসেন এবং গোবরডাঙা এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা স্থানীয়ভাবে জমি ভাড়া নিয়ে বাড়ি তৈরি করেন এবং ভারতীয় ভোটার কার্ড, আধার, রেশন কার্ড সহ সমস্ত পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেন।
এই তথ্য ফাঁস হতেই স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন নড়েচড়ে বসেছে। কীভাবে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই তারা ভারতে প্রবেশ করলেন এবং কাদের সহায়তায় ভোটার তালিকায় নাম তুললেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নির্বাচন কমিশন আধিকারিক বলেন, “এটা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটলে তা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উদ্বেগের কারণ। আমরা খতিয়ে দেখছি কবে ও কীভাবে তারা ভারতীয় নথি সংগ্রহ করেছে।”
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
এই ইস্যুতে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি শাসকদল তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলেছে। বিজেপি অভিযোগ করেছে, “রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার বানিয়ে নির্বাচনী লাভ নিচ্ছে।” দলের এক নেতা বলেন, “এটাই প্রমাণ করছে, রাজ্যে কীভাবে বাংলাদেশিদের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র দেওয়া হচ্ছে ভোটের স্বার্থে।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। দলের মুখপাত্র বলেন, “এটা প্রশাসনিক গাফিলতি হতে পারে, কিন্তু বিজেপি সবকিছুতেই রাজনীতি খোঁজে। সীমান্তের মানুষের অনেক সময়ই দুই দেশে আত্মীয় বা সম্পত্তি থাকে, তাই এই ধরনের ভুলভ্রান্তি সম্ভব।”
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এই ধরনের দ্বৈত পরিচয় আইনত অপরাধ। এই ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় বড় প্রশ্ন তুলেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ঢালী পরিবার জাল নথি ব্যবহার করে ভারতীয় ভোটার কার্ড পেয়েছে, তাহলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





