ভারত-পাক উত্তেজনার আঁচ! দেশের নাগরিক বিমানবন্দরে এই প্রথম বসছে অ্যান্টি-ড্রোন কিলার, জানুন কেন এই পদক্ষেপ জরুরি

বিশ্বজুড়ে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং অপারেশন ‘সিন্দূর’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে ড্রোনের নতুন-যুগের যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে উত্থানের প্রেক্ষাপটে এবার দেশের প্রধান নাগরিক বিমানবন্দরগুলিতে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম বসানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতের নাগরিক বিমান পরিবহণ ইতিহাসে এই প্রথমবার এ ধরনের অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে চলেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রক সরাসরি এই গোটা প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করছে। পাশাপাশি, ব্যুরো অব সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (বিসিএএস) একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, যেখানে ডিরেক্টোরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ), কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (সিআইএসএফ) এবং বিমান নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সংস্থার শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
মন্ত্রকের এক সিনিয়র কর্তা জানিয়েছেন, “সিস্টেমের স্পেসিফিকেশন চূড়ান্ত করার কাজ জোরকদমে চলছে। এই স্পেসিফিকেশন চূড়ান্ত হলেই দ্রুত ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে।”
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম পর্যায়ে দিল্লি, মুম্বই, শ্রীনগর এবং জম্মুর মতো সবচেয়ে সংবেদনশীল বিমানবন্দরগুলিতে এই অ্যান্টি-ড্রোন সুরক্ষা ব্যবস্থা বসানো হবে। এর পরে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরেও তা সম্প্রসারিত করা হবে।
কর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে অবস্থিত বিমানবন্দরগুলিতে সুরক্ষা জোরদার করাই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান কারণ। ২০২১ সালের এপ্রিলে পাহালগামে পর্যটকদের উপর সন্ত্রাসবাদী হামলার পরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল এবং ভারতীয় আকাশসীমায় একাধিক পাকিস্তানি ড্রোনের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল—সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই জরুরি সুরক্ষা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কাজে বিদেশের কয়েকটি বিমানবন্দরে সফলভাবে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মডেলও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।