আগামীকাল ৫ মার্চ নেপালের ইতিহাসে এক সন্ধিক্ষণ। গত বছরের রক্তক্ষয়ী ‘জেন-জেড’ (Gen-Z) আন্দোলনের পর এই প্রথম ব্যালট বক্সে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে চলেছে নেপালবাসী। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে ভারত-নেপাল সীমান্ত। আজ সীমান্ত সিলের দ্বিতীয় দিন, দুই দেশের রক্ষীরাই রয়েছেন হাই-অ্যালার্টে।
সীমান্তে কড়া পাহারা: সোমবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত টানা ৭২ ঘণ্টার জন্য ভারত-নেপাল সীমান্তের সমস্ত চেকপয়েন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো অবাঞ্ছিত উপাদান যাতে সীমান্ত পেরিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, তার জন্যই এই কড়া পদক্ষেপ। এমনকি নেপালের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ভারতীয় নম্বর প্লেটযুক্ত গাড়ির প্রবেশেও জারি হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।
রক্তের বিনিময়ে এই নির্বাচন: গত সেপ্টেম্বর মাসে নেপালে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল হিমালয়ের দেশ। পুলিশের গুলিতে ১৯ জন তরুণসহ মোট ৭৭ জনের প্রাণহানির পর পতন ঘটে কে.পি. শর্মা ওলি সরকারের। এরপর প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই অকাল নির্বাচনের ডাক দেয়। নির্ধারিত সময়ের দু’বছর আগেই অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে পুরনো রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে ফেলার ‘সুবর্ণ সুযোগ’ হিসেবে দেখছে সাধারণ মানুষ।
তরুণ প্রজন্মের হাতে চাবিকাঠি: নেপালের প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ১ কোটি ৯০ লক্ষ ভোটার কাল ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে রয়েছেন প্রায় ১০ লক্ষ নতুন তরুণ ভোটার, যারা প্রথমবারের মতো ডিজিটাল প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে ভোট দেবেন। ১৬৫টি আসনের জন্য লড়াই করছেন ৩,৪০৬ জন প্রার্থী।
ভোটের নির্ঘণ্ট:
-
ভোট শুরু: বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা।
-
ভোট শেষ: বিকেল ৫টা।
-
প্রার্থী সংখ্যা: ৩,৪০৬ জন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাম প্রসাদ ভাণ্ডারী আশাবাদী যে, এবার ভোটদানের হার রেকর্ড গড়বে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নেপাল কি পারবে এক স্থিতিশীল সরকার উপহার দিতে? উত্তর মিলবে ব্যালট বাক্স খুললেই।