বর্তমানের অস্থির বিশ্ব রাজনীতি ও ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় আরও কাছাকাছি এল বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতন্ত্র— ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সাম্প্রতিক চার দিনের মার্কিন সফর দুই দেশের সামরিক অংশীদারিত্বে এক নতুন যুগের সূচনা করল। ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই সফরে পেন্টাগনে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
পেন্টাগনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: সফরের শেষ দিনে পেন্টাগনে সেনাপ্রধান জেনারেল দ্বিবেদী মার্কিন সেনা সচিব ড্যানিয়েল পি ড্রিসকল এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত চিফ অফ স্টাফ জেনারেল ক্রিস্টোফার লানেভের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। এই আলোচনায় মূলত জোর দেওয়া হয়েছে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে ‘ইন্টারঅপারেবিলিটি’ বা যৌথ অভিযানের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর।
আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু:
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা: প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তি বিনিময়ের নতুন পথ অন্বেষণ।
নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ: পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
কৌশলগত সংযোগ: প্রতিরক্ষা নীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবির সঙ্গে বৈঠক করে ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করা।
কেন এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়ায় চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে উত্তেজনার আবহে জেনারেল দ্বিবেদীর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ন্যাশনাল গার্ড ব্যুরোর প্রধান জেনারেল স্টিভেন এস নর্ডহাউসের সঙ্গে বৈঠকটি দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ককে আরও গভীরে নিয়ে গেছে। শুধু প্রশিক্ষণ নয়, বরং যৌথ সামরিক অভিযানের সক্ষমতা বাড়ানোই ছিল এই সফরের মূল লক্ষ্য।
উপসংহার: জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর এই সফর প্রমাণ করে দিল যে, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন কেবল বন্ধু নয়, বরং সামরিক ক্ষেত্রে একে অপরের অপরিহার্য অংশীদার। এই সফরের মাধ্যমে উভয় দেশই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক স্তরে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলায় তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত।





