ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০ Font২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে যে ‘ঐতিহাসিক’ বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, তাতে চূড়ান্ত সিলমোহর দিতে এই মাসের শেষেই আমেরিকা সফরে যাচ্ছে একটি উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় প্রতিনিধি দল।
দুই দেশের প্রধান লক্ষ্য কী? এই ‘বিশেষ’ চুক্তির নেপথ্যে রয়েছে উভয় দেশের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ:
শুল্ক হ্রাস (Tariff Cut): এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমেরিকা তাদের আরোপিত শুল্ক বর্তমানের ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করতে চলেছে। যা ভারতীয় রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য এক বিরাট সুসংবাদ।
বিশাল বিনিয়োগ: বিনিময়ে ভারত আগামী ৫ বছরে আমেরিকা থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের শক্তি সম্পদ (Energy Products), উড়োজাহাজ ও তার যন্ত্রাংশ, ধাতু, কয়লা এবং উন্নত প্রযুক্তি আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও রুশ তেল প্রসঙ্গ: ইউক্রেন-রাশিয়া এবং পশ্চিম এশিয়ায় ইরান সংকটের আবহে ভারতের রুশ তেল আমদানির ওপর আমেরিকা বিশেষ নজর রাখছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত রাশিয়ার বদলে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাবে।
কারা থাকছেন এই প্রতিনিধি দলে? প্রথমে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের এই সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও, সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য তিনি থাকছেন না বলে খবর। তাঁর পরিবর্তে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ পর্যায়ের আমলারা ওয়াশিংটনে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিশন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
কৌশলগত গুরুত্ব: এই সফর কেবল বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ড্রাগন বা চিনকে রুখতে এশিয়ায় ভারতের গুরুত্ব যে আমেরিকার কাছে অপরিসীম, এই চুক্তি তারই প্রতিফলন। পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির কো-ডেভেলপমেন্ট এবং কো-প্রোডাকশনের ক্ষেত্রেও দুই দেশ একে অপরের পরিপূরক হতে চাইছে।
সব মিলিয়ে মাসের শেষে হতে চলা এই সফর বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণে ভারতকে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





