দেশে করোনার নতুন ঢেউ ঘিরে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। গতকালের তুলনায় বৃহস্পতিবার করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেল। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৬ জন, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। এই সময়ে দেশজুড়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩ হাজার ৯৫৫ জন করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
রাজ্যভিত্তিক পরিস্থিতি: কেরল, দিল্লি, মহারাষ্ট্রের শীর্ষে
দেশে এই মুহূর্তে সর্বাধিক করোনা আক্রান্তের হদিশ পাওয়া যাচ্ছে কেরলে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৪৮৭ জন। এরপরই রয়েছে রাজধানী দিল্লি, যেখানে সংক্রমিতের সংখ্যা ৫৬২ জন। মহারাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৫২৬ জন। এই রাজ্যগুলিতে ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বাংলায় নতুন করে বাড়ছে সংক্রমণ: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে JN.1 সাব-ভেরিয়েন্ট
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩৮ জন। করোনার নতুন ঢেউয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মৃতের সংখ্যা ১। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলায়ও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ঘোরালো হচ্ছে।
JN.1 সাব-ভেরিয়েন্টের উপসর্গ: কী কী লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমানে যে JN.1 সাব-ভেরিয়েন্টের দাপট দেখা যাচ্ছে, তাতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণের কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
গলা ব্যথা
ঘুমের সমস্যা
সর্দি
কাশি
মাথাব্যথা
দুর্বলতা বা ক্লান্তি
পেশীতে ব্যথা
চিকিৎসকদের মতে, “কাশি, গলা ব্যথা, হাঁচি, ক্লান্তি এবং মাথাব্যথা হলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন কিছু লক্ষণ। তবে এগুলো ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণও হতে পারে, তাই আগে পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।” বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে এই সাধারণ লক্ষণগুলিই দেখা যাচ্ছে।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নীরবতা: পরীক্ষা এবং সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা
করোনার নতুন এই ঢেউ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভাইরাস এখনও আমাদের জীবন থেকে বিদায় নেয়নি। সাধারণ সর্দি-কাশি বা ফ্লু-এর মতো উপসর্গ দেখা দিলেও তা অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মাস্ক পরা, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো কোভিড-বিধিগুলি পুনরায় কঠোরভাবে অনুসরণ করার সময় এসেছে। সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নির্দেশিকা জারি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই মুহূর্তে সকলের সহযোগিতা ও সচেতনতাই পারে এই নতুন ঢেউয়ের মোকাবিলা করতে।