প্রিমিয়াম বাইক সেগমেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত ইয়ামাহা মোটর ইন্ডিয়া। সম্প্রতি ব্রাজিলে কোম্পানিটি তাদের নতুন ‘ফ্যাক্টর ১৫০’ (Factor 150) ই১০০ (E100) কমপ্লায়েন্স বাইক লঞ্চ করেছে। এরপর থেকেই ভারতের বাজারে ইয়ামাহার ইথানল-চালিত বাইক আসবে কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিলেন ইয়ামাহা মোটর ইন্ডিয়ার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (সেলস) রণবীর সিং।
ইয়ামাহার পরিকল্পনা কী? রণবীর সিং জানিয়েছেন, বিকল্প জ্বালানি প্রযুক্তি নিয়ে ইয়ামাহা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। ভারতে ইথানল-চালিত বাইক লঞ্চের বিষয়ে তিনি বলেন, “একবার ভারতে সঠিক পরিবেশ ও পরিকাঠামো তৈরি হলে নতুন এই প্রযুক্তি আমরা অবশ্যই এখানে লঞ্চ করব।”
ইয়ামাহা ইতিমধ্যেই ভারতে হাইব্রিড প্রযুক্তিতে সফল। ইয়ামাহা ১২৫ এফআই হাইব্রিড, রে-জেডআর ১২৫ এফআই হাইব্রিড এবং এফজেড-এস হাইব্রিডের মতো মডেলে ‘স্মার্ট মোটর জেনারেটর’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মাইলেজ এবং রাইডিং অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করেছে।
ভারতের বাজারের গুরুত্ব: ভারতের বাজার ইয়ামাহার গ্লোবাল গ্রোথ স্ট্র্যাটেজির অন্যতম মূল স্তম্ভ। রণবীর সিংয়ের দাবি, এপ্রিল ২০২৬ থেকে প্রিমিয়াম বাইক সেগমেন্টে সংস্থার মার্কেট শেয়ার ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ইনোভেশন এবং ম্যানুফাকচারিংয়ের ক্ষেত্রে ভারত কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে ইয়ামাহা আর১৫ (R15), এমটি১৫ (MT15) এবং এরক্স (Aerox) ১৫৫ মডেলগুলি ভারতের বাজারে দারুণ চাহিদা তৈরি করেছে। সম্প্রতি সংস্থাটি তাদের প্রথম ইলেকট্রিক বাইকও সামনে এনেছে।
ইথানল জ্বালানি ও পরিবেশের চ্যালেঞ্জ: ভারত সরকার পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের (E100/E85) ওপর জোর দিচ্ছে যাতে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমে। তবে এর নেপথ্যে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ইথানল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় আখ, ধান ও ভুট্টা চাষে প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়, যা দেশের জলসম্পদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এই জলসঙ্কটের বিষয়টি ইথানল জ্বালানি নীতির ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।
যদিও ইয়ামাহা বর্তমানে ভারতের বাজারে হাইব্রিড এবং ইলেকট্রিক প্রযুক্তির ওপর বেশি নজর দিচ্ছে, তবে বিশ্ববাজারে ইথানল-চালিত বাইকের সাফল্য এবং ভারত সরকারের ক্রমবর্ধমান সবুজ জ্বালানির নীতির প্রেক্ষিতে, ইয়ামাহার ফ্লেক্স-ফুয়েল বাইক ভারতে আসা কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।





