“ভারতের শক্তিতে কেন ভয়?”-১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করলেন ম্যাক্রোঁ,

ভারতের আকাশসীমা সুরক্ষিত করতে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার মেগা ডিল নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে তরজা তুঙ্গে, ঠিক তখনই দিল্লিতে দাঁড়িয়ে তার মোক্ষম জবাব দিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বর্তমানে দিল্লিতে আয়োজিত ‘AI Impact Summit 2026’-এ যোগ দিয়ে তিনি সাফ জানালেন, এই চুক্তি ভারতকে কেবল সামরিকভাবে শক্তিশালীই করবে না, বরং দুই দেশের কৌশলগত বন্ধুত্বকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

সমালোচকদের পাল্টা তোপ: বৃহস্পতিবার সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় ম্যাক্রোঁ কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “ব্যবসায়িক আলোচনা সরকার ও কোম্পানির বিষয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না মানুষ কেন এই চুক্তির সমালোচনা করছেন? এই যুদ্ধবিমান আপনাদের দেশকে শক্তিশালী করছে, কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে। এতে দেশের নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে।”

মেগা ডিলের বিস্তারিত: উল্লেখ্য, এক সপ্তাহ আগেই কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিয়েছে। প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার এই বিশাল চুক্তি অনুমোদনের পরেই ম্যাক্রোঁর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মেক ইন ইন্ডিয়া-য় জোর: ম্যাক্রোঁ আশ্বাস দিয়েছেন, রাফাল তৈরিতে সর্বাধিক ভারতীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে। টাটা-এয়ারবাস চুক্তির ধাঁচেই রাফালের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভারতকে শামিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। শুধু রাফালই নয়, মুম্বইয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর হ্যামার মিসাইল উৎপাদন এবং H125 হেলিকপ্টারের অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপনের মতো ২০টিরও বেশি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

বাকস্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক: মিডিয়া বৈঠকে নিজের মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে ম্যাক্রোঁ শান্তভাবে জানান, তিনি বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে একে অপরের কথা শোনা জরুরি। ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি—তিন দিনের এই সফরে মোদী-ম্যাক্রোঁ রসায়ন যে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy