ভারতের খনি শিল্পে এক নয়া দিগন্তের সূচনা হতে চলেছে। গত কয়েক দশক ধরে যে সোনার জন্য ভারতকে বিদেশের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়েছে, সেই ছবি এবার বদলাতে শুরু করল। অন্ধ্রপ্রদেশের কুরনুল জেলায় এবার চালু হতে চলেছে দেশের প্রথম বৃহৎ আকারের বেসরকারি সোনার খনি। মে মাসের শুরু থেকেই শুরু হতে পারে এই মেগা প্রজেক্টের কাজ।
জোনাগিরি প্রকল্প: এক ঐতিহাসিক মাইলফলক
অন্ধ্রপ্রদেশের কুরনুল জেলার জোনাগিরি, এররাগুডি এবং পগিদিরাই—এই তিনটি গ্রামজুড়ে প্রায় ৫৯৮ হেক্টর এলাকায় গড়ে উঠেছে ‘জোনাগিরি গোল্ড মাইন’। এটি দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো বড় সোনার খনি, যা বেসরকারি উদ্যোগে (জিওমাইসোর সার্ভিসেস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড) পরিচালিত হতে চলেছে। প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে তৈরি এই প্রকল্পটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়।
কতটা সোনা মজুত আছে এই খনিতে?
প্রাথমিক পরিসংখ্যান দেখে কপালে চোখ উঠতে পারে অনেকেরই। খনি বিশেষজ্ঞদের মতে:
প্রমাণিত মজুত: খনিটিতে ১৩.১ টন সোনার মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্ভাব্য মজুত: অনুসন্ধানের তথ্য বলছে, খনিটির গভীরে লুকিয়ে থাকতে পারে ৪২.৫ টন পর্যন্ত সোনা।
বার্ষিক উৎপাদন: আগামী ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর গড়ে ১০০০ কেজি বা ১ টন করে পরিশোধিত সোনা উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
কেন এটি ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি?
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সোনা ব্যবহারকারী দেশ। প্রতি বছর প্রায় ৮০০ টনের বেশি সোনা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। দীর্ঘ সময় ধরে কেবল কর্ণাটকের ‘হুট্টি গোল্ড মাইনস’ (বার্ষিক মাত্র ১.৫ টন উৎপাদন) এবং ২০০০ সালে ‘কোলার গোল্ড ফিল্ডস’ (KGF) বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে ভারতের অভ্যন্তরীণ সোনা উৎপাদন ছিল কার্যত নগণ্য। জোনাগিরি প্রকল্প সেই দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতা পূরণ করবে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুকুটে নয়া পালক
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু আনুষ্ঠানিকভাবে এই খনিটি দেশের উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। খনি ও ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রধান সচিব মুকেশ কুমার মীনা এই অগ্রগতিকে একটি ‘যুগান্তকারী ঘটনা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এটি কেবল অন্ধ্রপ্রদেশের নয়, বরং ভারতের সামগ্রিক স্বর্ণখনি শিল্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমদানিতে প্রভাব পড়বে কি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই একটি খনি দিয়ে ভারতের বিশাল চাহিদার পুরোটাই মেটানো সম্ভব নয় ঠিকই, তবে এটি দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদকে কাজে লাগানোর পথে বড় এক কাঠামোগত বদল। এটি প্রমাণ করে যে ভারতের মাটিতেই লুকিয়ে আছে বিপুল সম্পদ, যা সঠিক পরিকল্পনায় বের করে আনতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়





