ভারতের প্রেমে এক নাইজেরিয়ান ছাত্র, বললেন – ‘আমি আর কখনও নিজ দেশে ফিরব না’

যখন হাজার হাজার ভারতীয় উন্নত জীবনের খোঁজে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন, তখন তার বিপরীত চিত্র তুলে ধরলেন এক নাইজেরিয়ান ছাত্র। পাস্কাল ওলালেয়ে নামের এই যুবক দাবি করেছেন, ভারতের জীবনযাত্রা এবং এখানকার মানুষের অতিথিপরায়ণতা তাকে এতটাই মুগ্ধ করেছে যে তিনি আর কোনোদিন পশ্চিমা দেশে ফিরে যেতে চান না। তার এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল।
‘মানসিক প্রশান্তি’র খোঁজে ভারতে
২০২১ সালে নাইজেরিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ লাগোস থেকে পড়া ছেড়ে ভারতে চলে আসেন পাস্কাল। ভারতে এসে তার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওতে তিনি বলেছেন, কেন তিনি আর পশ্চিমের দেশগুলোতে ফিরে যেতে চান না, যেখানে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বেড়ে উঠেছেন।
পাস্কাল জানান, ভারতে তিনি এক ধরনের মানসিক শান্তি অনুভব করেন। তিনি বলেন, “আমি এখানে সকালে দুশ্চিন্তা নিয়ে ঘুম থেকে উঠি না, বরং শান্তিতে থাকি।” তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমের দেশগুলোতে তার গায়ের রঙের কারণে তাকে প্রায়শই ‘হুমকি’ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু ভারতে তিনি নিজেকে নিরাপদ এবং স্বাভাবিক মনে করেন।
ভারতের সরল জীবনযাপন
পাস্কাল মনে করেন, ভারতের সমাজ অনেক বেশি সরল এবং এখানে দেখনদারির সংস্কৃতি নেই। তিনি বলেন, “এখানে আমাকে নিজেকে কৃত্রিমভাবে প্রকাশ করতে হয় না। আমি আমার পুরুষত্ব প্রকাশ করতে পারি, সেটাকে কেউ ‘টক্সিক’ হিসেবে দেখে না।” তিনি বলেন, ভারতের মানুষজন সৎ এবং সোজাসাপ্টা কথা বলে, যা তিনি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, ভারতে তাকে প্রতিনিয়ত তার কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয় মনে করিয়ে দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, “আমার গায়ের রং আমার সম্পূর্ণ পরিচয় নয় এখানে। আমি মানুষ হিসেবেই এখানে মূল্য পাই।”
জীবনের নিরাপত্তা ও সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা
পাস্কাল তার ভিডিওতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পশ্চিমের তুলনায় ভারতে রাতে রাস্তায় হাঁটার সময় তিনি অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করেন। তার মতে, ভারতের জীবনযাত্রার খরচ অনেক কম—বাসাভাড়া সস্তা, খাবার প্রাকৃতিক এবং জীবন অনেক সহজ।
ভিডিওর শেষে তিনি বলেন, “এখানে আমি সত্যিকারের স্বাধীনতা অনুভব করি, শুধু কাগজে লেখা স্বাধীনতা নয়। এবং সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ আমাকে সম্মান করে আমার চেহারা দেখে নয়, আমি কে, সেটা দেখে।”
পাস্কালের এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। অনেকেই তার মন্তব্যের প্রশংসা করেছেন এবং তাকে ভারতে স্বাগত জানিয়েছেন। তার এই গল্প ভারতে বসবাসরত বিদেশিদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
To