ভারতের জ্বালানি স্বাধীনতা রুখতে মরিয়া চিন? বিস্ফোরক দাবি বিজেপির মুখপাত্রের!

ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার পথে কি কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে চিনা লবি? সম্প্রতি এমন এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভারত যখন কৌশলগতভাবে জ্বালানি স্বাধীনতার দিকে এগোচ্ছে, তখন একটি বিদেশি লবি—বিশেষ করে চিনা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী—এই অগ্রযাত্রাকে কোনোভাবেই সহজভাবে নিতে পারছে না। তাঁদের লক্ষ্য একটাই, ভারতের অর্থনীতির ওপর তাদের প্রভাব বজায় রাখা।
ইথানল-ব্লেন্ডেড পেট্রোল (EBP) প্রোগ্রাম ভারতের শক্তি খাতের এক বৈপ্লবিক সাফল্য বলে দাবি করেছেন প্রদীপ ভাণ্ডারী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে এই কর্মসূচির ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বর্তমানে পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ভারত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রদীপ ভাণ্ডারীর কথায়, “ভারত জ্বালানি খাতে আত্মনির্ভর হলে বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে, যা চিনা লবিদের প্রভাব কমিয়ে দেবে। তাই তারা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।”
এই প্রোগ্রামের সাফল্যের খতিয়ান দিতে গিয়ে তিনি গত তিন বছরের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, দেশে ২০ কোটির বেশি দুই-চাকার এবং ৩০ লক্ষ চার-চাকার যানবাহন গত তিন বছর ধরে এই মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করছে। অথচ, ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়ার মতো কোনো বড় ধরনের অভিযোগ কোথাও পাওয়া যায়নি। আধুনিক ইঞ্জিনের প্রযুক্তিতে এই ইথানল মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দেশের মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের খরচ অনেকটাই সাশ্রয়ী করেছে।
ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের এই সাফল্য শুধুমাত্র জ্বালানি খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের অর্থনীতি ও কৃষিব্যবস্থায় এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে। মূলত চিনি কলগুলো থেকে উৎপাদিত এই ইথানল কৃষকদের উপার্জনের একটি বড় উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আখের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় কৃষকদের আয় কয়েক গুণ বেড়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। একই সঙ্গে, অপরিশোধিত তেলের আমদানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ায় ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে এবং রিজার্ভের ভাণ্ডার আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
পরিবেশগত দিক থেকেও এই কর্মসূচি এক মাইলফলক। ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের ফলে যানবাহন থেকে নির্গত ক্ষতিকারক কার্বন নিঃসরণ অনেক কমেছে। পরিবেশবিদদের মতে, বড় শহরগুলোর বায়ুর মান উন্নত করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এই উদ্যোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
পরিশেষে, ভারতের জ্বালানি স্বাধীনতার এই যাত্রায় চিনা লবির প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ভারত সরকার অবিচল। ইথানল ব্লেন্ডিং প্রোগ্রাম কেবল একটি সরকারি প্রকল্প নয়, এটি ভারতের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও পরিবেশ সুরক্ষার এক সম্মিলিত লড়াই। কৃষকের উন্নয়ন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জ্বালানি আমদানির খরচ কমিয়ে ভারত যেভাবে স্বনির্ভরতার পথে পা বাড়াচ্ছে, তা আগামী দিনে দেশীয় অর্থনীতিকে এক উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।