ভারতের জিডিপি বৃদ্ধি ৭.৮ শতাংশ, কিন্তু এই সাফল্যের নেপথ্যে কি লুকানো দুর্বলতা

জাতীয় হিসাব বিভাগ (National Accounts Division) কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (২০২৫–২৬) ভারতের জিডিপি বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে অনেকটাই বেশি। কিন্তু এই চমকপ্রদ পরিসংখ্যানের গভীরে গেলে দেখা যায়, অর্থনীতির প্রকৃত ভিত্তি বেশ দুর্বল এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাত ধীর গতিতে চলছে।

কোন খাত এগিয়ে, কোনটি পিছিয়ে?
এই উচ্চ জিডিপি বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হলো তৃতীয়ক (Tertiary) খাত, যা পরিষেবা ও সেবা শিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই খাত ৯.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত বছরের ৬.৮ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন।

অন্যদিকে, অর্থনীতির মূল দুটি ভিত্তি—প্রাথমিক এবং দ্বিতীয়ক খাত—থমকে আছে।

দ্বিতীয়ক খাত (শিল্প ও উৎপাদন) ৮.৬ শতাংশ থেকে নেমে ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রাথমিক খাত (কৃষি ও খনিজ) ২.২ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ২.৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, খনন ও পাথর উত্তোলন খাতে গত বছরের ৬.৬ শতাংশ বৃদ্ধির বদলে এবার মাইনাস ৩.১ শতাংশ পতন দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও ইউটিলিটি খাতেও বৃদ্ধি ১০.২ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ০.৫ শতাংশ হয়েছে।

দুর্বল সূচকের চিত্র
জিডিপি হিসাব করার জন্য ব্যবহৃত ২২টি সূচকের মধ্যে মাত্র ৫টিতে উন্নতি হয়েছে, আর ৭টিতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। কয়লা উৎপাদন, ব্যক্তিগত গাড়ি বিক্রি, ইস্পাত খরচ, এবং রেলওয়ে যাত্রী কিলোমিটারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো নিম্নগামী। নতুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ত্রৈমাসিকে শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ, যা দ্বিতীয়ক খাতের উচ্চ বৃদ্ধির দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

অনানুষ্ঠানিক খাতের তথ্য অনুপস্থিত
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই পরিসংখ্যানগুলোতে অনানুষ্ঠানিক খাতের কোনো তথ্য নেই। দেশের কর্মসংস্থানের ৯৭.৫ শতাংশ আসে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) থেকে, যা এই অনানুষ্ঠানিক খাতের অংশ। সরকারের পদ্ধতিতে এই বিশাল খাতকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কয়েকটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির তথ্যের উপর ভিত্তি করে পুরো অর্থনীতির চিত্র আঁকা হয়, যা বাস্তবতা থেকে অনেকটাই দূরে। এই পদ্ধতি অনানুষ্ঠানিক খাতের প্রকৃত দুর্বলতা বা সংকটকে আড়াল করে দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যানটি চোখে লাগলেও, ভেতরের সূচকগুলো এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের অনুপস্থিতি দেশের অর্থনীতির প্রকৃত স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে ধরেছে।