মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, তখন ভারতের জন্য এল এক স্বস্তির খবর। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই আশঙ্কার কালো মেঘ সরিয়ে ভারতকে ‘বিশেষ বন্ধু’র মর্যাদা দিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি।
ভারতের জন্য কেন এই পথ গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের লাইফলাইন বলা হয় এই হরমুজ প্রণালীকে। প্রতিদিন গড়ে ১৭ থেকে ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই সংকীর্ণ পথ দিয়েই যাতায়াত করে। ভারতের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের বড় অংশই এই রুট দিয়ে আসে। ইরান যদি এই পথ বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার পাশাপাশি ভারতের অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা ছিল।
বন্ধুত্বের হাত বাড়াল ইরান
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত ফাথালি স্পষ্ট জানান, ভারত ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত মজবুত। ভারতের জাহাজগুলি যাতে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন:
“ভারত আমাদের বন্ধু দেশ। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আপনারা এর ইতিবাচক প্রভাব দেখতে পাবেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই অঞ্চলে ভারত ও ইরানের স্বার্থ অভিন্ন।”
কূটনৈতিক মহলে স্বস্তি
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অনেক দেশের জাহাজ আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও, ভারতের ক্ষেত্রে ইরানের এই নমনীয় অবস্থানকে বড় কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল। ভারতের কঠিন সময়ে পাশে থাকার প্রতিদান হিসেবেই তেহরান এই কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব
ইরান যদি সত্যিই এই রুট ভারতের জন্য সুরক্ষিত রাখে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও ভারতের সরবরাহে ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা কমবে। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থিরতায় ভারতের মতো বড় শক্তির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই এখন ইরানের লক্ষ্য বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।