ভারতের অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি, কর্মসংস্থানের শীর্ষে দেশের এমএসএমই খাত

ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি এখন এমএসএমই (MSME) খাত। বিশ্ব এমএসএমই দিবসের প্রাক্কালে প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের জিডিপিতে এই খাতের অবদান ৩১.১ শতাংশ, যা ভারতের ক্রমবর্ধমান শিল্পায়নের প্রমাণ। কৃষি খাতের পরেই এটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থান প্রদানকারী ক্ষেত্র, যা ৩৮.৯ কোটিরও বেশি মানুষের রুজি-রোজগারের জোগান দিচ্ছে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ এই খাতের জন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমানে ‘উদ্যম’ পোর্টালে নিবন্ধিত উদ্যোগের সংখ্যা ৮.৭ কোটির গণ্ডি ছাড়িয়েছে। সহজ ঋণের সুবিধার্থে সরকার ক্রেডিট গ্যারান্টি সীমা ৫ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১০ কোটি টাকা করেছে, যা ছোট উদ্যোক্তাদের মূলধনের জোগান সহজ করেছে। এই সময়ের মধ্যে সিজিটিএমএসই (CGTMSE) ৩.৭৭ লক্ষ কোটি টাকার গ্যারান্টি মঞ্জুর করেছে, যা নজিরবিহীন।
এছাড়াও, ‘এমএসএমই সমাধান’ ও ‘চ্যাম্পিয়ন্স’ পোর্টালের মাধ্যমে ব্যবসায়িক অভিযোগের প্রায় ৯৯ শতাংশ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। খাদি ও গ্রামীণ শিল্পের পণ্যের বিক্রি ১.২৭ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা গ্রামবাংলার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে। ডিজিটাল ক্রেডিট মডেল এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার এই খাতকে আরও আনুষ্ঠানিক ও শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এটি কেবল দেশের অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করছে না, বরং নারী উদ্যোক্তা ও যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। ভারত আজ এমএসএমই-র হাত ধরে আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।