ভারতের অর্থনীতি এবং পরিবেশের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিরল এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ পুনর্ব্যবহারের জন্য ₹১,৫০০ কোটি টাকার একটি বিশাল প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এই ছয় বছর মেয়াদী প্রকল্পটি ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশন’-এর একটি অংশ, যার লক্ষ্য ভারত-কে এই ধরনের মূল্যবান খনিজ আমদানির উপর নির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি দেওয়া।
কেন এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ?
লিথিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল, তামা, এবং বিরল খনিজ উপাদানগুলি বৈদ্যুতিক যান (EV), পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের মতো আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য। বর্তমানে ভারত এই খনিজগুলির জন্য প্রধানত চীনের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত প্রায় ₹৩৪,০০০ কোটি টাকার খনিজ আমদানি করেছে, যার মধ্যে ৫৬.৩% এসেছে চীন থেকে। এই নির্ভরতা দেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় সুরক্ষার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। নতুন এই প্রকল্প সেই ঝুঁকি কমাতে এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
লক্ষ্য এবং সুবিধা:
- আমদানি হ্রাস: এই প্রকল্প ভারতকে মূল্যবান খনিজ আমদানির উপর নির্ভরশীলতা কমাতে সাহায্য করবে, যা চীনের মতো দেশগুলোর উপর ভূ-রাজনৈতিক নির্ভরতা কমাবে।
- পুনর্ব্যবহার বৃদ্ধি: এর মাধ্যমে পুরনো ব্যাটারি ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে খনিজ পদার্থ পুনরুদ্ধার করা হবে। প্রাথমিকভাবে, ৪০০ কিলোটন পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- পরিবেশ সুরক্ষা: এটি ভারতের ২০৭০ সালের মধ্যে ‘নেট-জিরো নির্গমন’ লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে।
- শিল্প বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান: এই উদ্যোগে বেসরকারি সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ বাড়বে, যা নতুন শিল্প স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
এছাড়াও, সম্প্রতি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ও অন্যান্য বর্জ্যের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়ায় পুনর্ব্যবহারের খরচ আরও কমবে। হায়দ্রাবাদের মিডওয়েস্ট অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস (MAM)-এর মতো সংস্থাগুলো এই প্রকল্পে অংশ নিতে শুরু করেছে। খনিজ মন্ত্রণালয়ের সচিব ভি. এল. কান্থা রাও জানিয়েছেন, এটি একটি সার্কুলার ইকোনমি গড়ে তোলার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা ভারতের শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং বিশ্ববাজারে দেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।