বাংলার মা-বোনেদের জন্য ফের বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই রাজ্যের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং ‘যুবসাথী’ নিয়ে উপভোক্তাদের আশ্বস্ত করলেন তিনি। পূর্বস্থলীর জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই প্রকল্প শুধু সাময়িক নয়, বরং আজীবন জারি থাকবে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বড় আশ্বাস
পূর্বস্থলী দক্ষিণের সমুদ্রগড় হাই স্কুলের মাঠ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বার্তা দেন সেইসব মহিলাদের, যারা নতুন করে এই প্রকল্পে নাম লিখিয়েছেন। তিনি বলেন:
“লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আজীবন চলবে। যারা নতুন নাম নথিভুক্ত করেছেন কিন্তু এখনও টাকা পাননি, তাঁদের চিন্তার কারণ নেই। নামগুলো প্রসেসিং-এ আছে, খুব শীঘ্রই সাহায্য পৌঁছে যাবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে রাজ্যের কয়েক কোটি মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, যা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
যুবসাথী প্রকল্পের উপভোক্তাদের জন্য বার্তা
শুধু মহিলাদের নয়, রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্যও ইতিবাচক খবর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যুবসাথী প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেও যারা এখনও আর্থিক সুবিধা পাননি, তাঁদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, তালিকায় নাম থাকা প্রত্যেক যোগ্য প্রার্থীই ধাপে ধাপে প্রকল্পের টাকা পাবেন। কারিগরি কারণে কিছু দেরি হলেও সরকারের লক্ষ্য সবাইকে এই সহায়তার আওতায় আনা।
প্রকল্পই যখন প্রচারের হাতিয়ার
২০২৬-এর নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল নেত্রী উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকেই সবথেকে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা (তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য ১,২০০ টাকা) পর্যন্ত এই মাসিক ভাতা রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সাহায্য করছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন ফের মনে করিয়ে দেন, সরকারের লক্ষ্য রাজ্যের সাধারণ মানুষের হাতে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দিয়ে তাঁদের স্বনির্ভর করা।
এক নজরে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার হাইলাইটস:
আজীবন নিশ্চয়তা: কোনো পরিস্থিতিতেই বন্ধ হবে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডার।
নতুন তালিকা: নতুন আবেদনকারীদের নাম দ্রুত অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।
যুবসাথী আপডেট: বকেয়া থাকা প্রার্থীদের টাকা দেওয়ার আশ্বাস।
আর্থিক সুরক্ষা: গ্রামীণ ও প্রান্তিক মহিলাদের অগ্রাধিকার।





