“ভাইপোর নাম-নিশানা থাকবে না বাংলায়!” বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতা-অভিষেকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক হুংকার মুখ্যমন্ত্রীর!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দীর্ঘ তেরো বছর পর পুনরায় চালু হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট সংক্রান্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। আর এই বিধানসভার বাজেট আলোচনার জবাবি ভাষণে নেমে প্রাক্তন শাসকদল তথা বিরোধী শিবিরকে অত্যন্ত তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের বিধানসভার এই হাই-ভোল্টেজ অধিবেশনে তাঁর প্রধান নিশানায় ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা থেকে শুরু করে বিগত সরকারের আমলের চরম দুর্নীতি—একাধিক বিতর্কিত ও সংবেদনশীল ইস্যুতে একযোগে সুর চড়িয়ে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দম্ভকে কড়া ভাষায় তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাম্প্রতিক অতীতে প্রাক্তন মমতা সরকারের বিতর্কিত পুলিশ নীতিকে কঠোর সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি এবং বেআইনি তোলাবাজির হাতিয়ার হিসেবে যেভাবে পুলিশ প্রশাসনকে নিচে নামানো হয়েছিল, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে তার সম্পূর্ণ ও আমূল পরিবর্তন করতে বদ্ধপরিকর। তিনি অত্যন্ত কড়া সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সভা-সমিতির অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে এখন থেকে পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ করবে। একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন যে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে এই ভাইপোর নাম-নিশানা পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাবে না।
প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, রাজ্য পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও কর্মক্ষম করে তুলতে খুব শীঘ্রই বিশ হাজার নতুন কনস্টেবল ও কর্মী নিয়োগ করা হবে। সেই সঙ্গে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে রাজ্যে কোনো ধরনের তোলাবাজি বা অনৈতিক সিন্ডিকেট রাজ আর একবিন্দু বরদাস্ত করা হবে না। এর পাশাপাশি, ২০১৮ সালের ভয়াবহ বিধানসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসা, নারী নির্যাতন এবং পূর্ববর্তী জমানার পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও নতুন করে তদন্ত করার কঠোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই লড়াই কোনোমতেই থামবে না স্পষ্ট জানিয়ে সিপিআইএম এবং তৃণমূল—উভয় পূর্ববর্তী আমলের দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিস্ফোরক হুঁশিয়ারিও এদিনের বিধানসভা থেকে উচ্চারণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।