‘ভবানীপুর ছাড়লেই সুযোগ পেয়ে যেতেন মমতা!’—বিধানসভায় ধামাকা ভাষণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

“মমতার বয়স প্রায় ৭৫ বছর। তাই আর নির্বাচনে না লড়ে এবার বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়া উচিত তাঁর!” — বুধবার রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এভাবেই সোজাসুজি রাজনীতির ময়দান থেকে অবসর নেওয়ার পরামর্শ দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা যেমন দিলেন, তেমনই বিরোধী শিবিরকে তুলে ধুলো ধুসে দেওয়ার ভঙ্গিতে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।
কেন ভবানীপুর ধরে রেখে নন্দীগ্রাম ছাড়লেন?
শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, ভবানীপুর কেন্দ্র ধরে রাখা এবং নন্দীগ্রাম ছাড়ার পিছনে একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল ছিল। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষ আমার এই সিদ্ধান্তে কিছুটা অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। কিন্তু আমি তাঁদের বুঝিয়েছি— ভবানীপুর ছেড়ে দিলে যে ব্যক্তি আমার কাছে দু’বার হেরেছেন, তিনি আবার উপনির্বাচনে লড়ে বিধানসভায় আসার সুযোগ পেয়ে যেতেন।” উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভবানীপুরে মমতাকে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু।
এদিন উপনির্বাচনে বিজয়ী নন্দীগ্রামের নতুন বিধায়ক হাসিরানি রথ ও রেজিনগরের বিধায়ক শাখারভ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে শুভেন্দু নন্দীগ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, হাসিরানি রথের মাধ্যমেই নন্দীগ্রামের যাবতীয় উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে।
চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড: ২ কোটির সুপারি ও বিস্ফোরক প্রশ্ন!
রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই গত ৬ মে মধ্যমগ্রামে আততায়ীদের গুলিতে খুন হন শুভেন্দুর প্রাক্তন সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ। সিবিআই (CBI) ইতিমধ্যেই শুটারসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পরোক্ষ মদতদাতাদের দিকে আঙুল তুলে শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন— “খুনের জন্য ব্যবহৃত ২ কোটি টাকার সুপারি কোথা থেকে এসেছিল? ক্যামাক স্ট্রিট, কালীঘাট না কি ডায়মন্ড হারবার?” রাজনৈতিক মহলের মতে, নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরকেই সরাসরি নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রেজিনগরের ঐতিহাসিক জয় ও মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক:
রেজিনগর উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়কে বিজেপির অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন শুভেন্দু। প্রায় ৭৫ হাজার ভোটে শাখারভ সরকারের জয় নিয়ে তিনি বলেন, “রেজিনগরে ৭০ হাজার মহিলা ‘অন্নপূর্ণা প্রকল্প’-এর সুবিধা পেয়েছেন, যার মধ্যে ৩৫ হাজারই সংখ্যালঘু পরিবারের। বিরোধীরা আমাদের ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, মুসলিম মহিলারা সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।”
“এখনও শুধু চা-বিস্কুট দেওয়া হয়েছে, লাঞ্চ বাকি!”
বিজেপি সরকারের প্রথম ছয় মাসের সাফল্য তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, রাজ্যে উন্নয়নের জোয়ার কেবল শুরু হয়েছে। খাবারের রূপক টেনে তিনি মুচকি হেসে মন্তব্য করেন, “এখনও পর্যন্ত যা কাজ হয়েছে, তা কেবল চা-বিস্কুট দেওয়ার মতো! প্রাতরাশ এবং দুপুরের তৃপ্তিদায়ক খাবার পরিবেশন করা এখনও বাকি আছে।”
রাজ্য রাজনীতিতে নির্বাচনোত্তর এই দ্বিমুখী টানাপোড়েন এবং বিধানসভায় শুভেন্দুর এই চাঁচাছোলা আক্রমণ এখন নেটপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।