বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) আদায়ের দাবিতে ফের উত্তপ্ত হতে চলেছে তিলোত্তমার রাজপথ। তবে সংগ্রামী যৌথমঞ্চের মিছিলের আবেদন এদিন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। রবিবার হাজরা মোড়ে মিছিল করার অনুমতি না মিললেও, কিছু কঠোর শর্তের বিনিময়ে সেখানে অবস্থান-বিক্ষোভ করার অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
কেন এই আইনি লড়াই? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল ৩১ মার্চের মধ্যে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার। রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রাপ্য ডিএ এখনও মেলেনি। এই বঞ্চনার প্রতিবাদেই আগামী রবিবার (১২ এপ্রিল) হাজরা মোড় থেকে হরিশ মুখার্জি রোড হয়ে মিছিলের পরিকল্পনা করেছিল সংগ্রামী যৌথমঞ্চ। কিন্তু পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন থেকে সাড়া না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় তারা।
আদালতে সওয়াল-জবাব: শুনানি চলাকালীন বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা শুধু ভবানীপুরে থাকেন না, গোটা বাংলায় থাকেন। শিয়ালদহ থেকে রানি রাসমণি রোড পর্যন্ত মিছিল করলে অসুবিধা কোথায়?” অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত যুক্তি দেন যে, প্রস্তাবিত এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল এবং সেখানে বড় হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের সময় যানজট ও আইনশৃঙ্খলার সমস্যার আশঙ্কাও প্রকাশ করে রাজ্য।
হাইকোর্টের ৫টি বড় শর্ত: মিছিলের আবেদন নাকচ করলেও ১০০০ মানুষকে নিয়ে অবস্থান-বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছে আদালত। তবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কড়া নির্দেশ:
সময়সীমা: দুপুর ১টায় শুরু করে বিকেল ৪টের মধ্যে বিক্ষোভ শেষ করতে হবে।
সদস্য সংখ্যা: সর্বোচ্চ ১০০০ জন সদস্য কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন।
শব্দবিধি: মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া শব্দবিধি মেনে চলতে হবে।
যান চলাচল: কোনোভাবেই রাস্তা অবরোধ বা যান চলাচলে বাধা দেওয়া যাবে না।
আইনশৃঙ্খলা: পুলিশ পুরো বিষয়টির ওপর কড়া নজরদারি চালাবে।
সংগ্রামী যৌথমঞ্চের পাল্টা তোপ: সংগঠনের দাবি, রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা হাজরা ও হরিশ মুখার্জি রোড এলাকাকে বেছে নিয়েছিল। মিছিলের অনুমতি না মেলায় কিছুটা ধাক্কা খেলেও, আদালতের নির্দেশ মেনে রবিবার হাজরা মোড়েই বকেয়া ডিএ-র দাবিতে সরব হবেন সরকারি কর্মীরা।
ভোটের মুখে ডিএ আন্দোলনকারীদের এই জমায়েত নবান্নের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





