ব্ল্যাক কফি, ফিস রোল থেকে কালাকাঁদ! শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে কী ছিল মেনুতে? অন্দরের খবর ফাঁস ঋতব্রতদের

চা-জলপানের ফাঁকে ব্ল্যাক কফি, ফিস রোল, চিকেন স্প্রিং রোল আর কালাকাঁদের পাতে রেখেই চলল দীর্ঘ রাজনৈতিক আলোচনা! শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসল ‘নব্য তৃণমূল’-এর ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে শুধু এসআইআর (SIR) বা রাজনৈতিক তরজাই নয়, অন্দরের মেনু থেকে শুরু করে আগামী দিনের আইনি লড়াইয়ের রূপরেখা নিয়েও মুখ খুললেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও আখরুজ্জামানের মতো নেতারা।
নবান্নের টেবিলে কী কী ছিল?
এদিনের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু থেকেই কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। বৈঠক শেষে জানা যায়, মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতার প্রতিনিধি দলের এই আলোচনায় আপ্যায়নের ব্যবস্থাও ছিল এলাহি। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বৈঠকে নবান্নের তরফে অতিথিদের ব্ল্যাক কফি, ফিস রোল, চিকেন স্প্রিং রোল, কালাকাঁদ এবং বিশেষ সন্দেশ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
৬ মাসের সময়সীমা ও আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি
জলযোগের ফাঁকেই চলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অত্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়েছে এবং দলগতভাবে তাঁরা আরও সময় চেয়েছেন।
আদালত ও আন্দোলনের হুঙ্কার: আখরুজ্জামান স্পষ্ট ভাষায় জানান, জেলায় জেলায় এবং ব্লকে ব্লকে বৈধ ভোটারদের আবেদন করানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে তাঁরা প্রয়োজনে আদালতে যাবেন এবং তারপরেও প্রয়োজন হলে বৃহত্তর আন্দোলনে পথে নামবেন।
ছয় মাসের ডেডলাইন: নাম তোলবার প্রক্রিয়া সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে তাঁরা সরকারের কাছে অন্তত ছ’মাস সময় চেয়েছেন।
কুণাল ঘোষকে আক্রমণ: বাজেট অধিবেশনে এসআইআর নিয়ে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে কুণাল ঘোষকে তীব্র আক্রমণ করেন আখরুজ্জামান। তিনি দাবি করেন, কুণাল বাবু যা বলছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, চাইলে তাঁর বিধানসভার সেই বক্তৃতা যেন ফের শুনে নেওয়া হয়।
প্রতিনিধি দলে কারা ছিলেন?
এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ‘নব্য তৃণমূল’-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মোট ১২ জন হেভিওয়েট প্রতিনিধি। তালিকায় ছিলেন—
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
আখেরুজ্জামান
ফিরহাদ হাকিম
জাভেদ খান
সাবিনা ইয়াসমিন
নুর আলম
ইমানি বিশ্বাস
রেয়াত হুসেইন সরকার
যেবের শেখ
বুরহানুল ইসলাম লিটন
বাহারুল ইসলাম
গোলাম রব্বানী
সব মিলিয়ে, ফিস রোল ও কালাকাঁদের পাতে হওয়া এই দীর্ঘ বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার।