“এসএসকেএম সেরা হলে আপত্তি কোথায়?” অভিষেকের চিকিৎসা থেকে ‘এসআইআর’ ইস্যুতে কালীঘাট শিবিরকে কড়া আক্রমণ ঋতব্রতর!

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা এবং এসএসকেএম হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই এবার শাসক শিবিরকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা—সমস্ত ইস্যুতে এদিন কালীঘাট শিবিরকে বেনজির কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন তিনি। সেই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

ঋতব্রতর নিশানায় অভিষেক ও কালীঘাট শিবির

এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক একাধিক ইস্যুতে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, মুখ্যমন্ত্রী যদি অতীতে এসএসকেএম হাসপাতালকে রাজ্যের সেরা চিকিৎসাকেন্দ্র বলে সার্টিফিকেট দিয়ে থাকেন, তবে সেই হাসপাতালেই চিকিৎসা করাতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি কোথায় ছিল? পরোক্ষভাবে অভিষেকের চিকিৎসা ও এসআইআর সংক্রান্ত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিষেকের উচিত কুণাল ঘোষের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলা। তাঁর এই হঠাৎ দেওয়া পরামর্শ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন।

নবান্নে শুভেন্দু-নব্য তৃণমূল বৈঠক ও এসআইআর বিতর্ক

অন্যদিকে, এদিনের রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় কেন্দ্রবিন্দু ছিল নবান্ন। শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে নবান্নে আসেন ‘নব্য তৃণমূল’-এর প্রতিনিধি দল। দীর্ঘ এই বৈঠকের পর বেরিয়ে আসার জট যে সহজে কাটছে না, তা স্পষ্ট।

বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলের তরফে জানানো হয়, মূলত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

  • বৈঠকের মূল এজেন্ডা: বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, তাঁরাও চান না রাজ্যে কোনও অবৈধ ভোটার থাকুক। তবে এর পাশাপাশি এও দাবি তোলা হয়েছে যে, কোনও অবস্থাতেই যেন একজনও বৈধ ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন।

  • ২০ লক্ষ মানুষের জন্য হাইকোর্টের হুঙ্কার: প্রতিনিধি দলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন প্রায় ৭ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু পালটা জানানো হয়েছে যে, প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ পুরো বিষয়টি এখনও বুঝে উঠতে পারেননি। এই বিশাল সংখ্যক মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

  • মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী সদর্থক ভূমিকা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। মানবিক দিক বিচার করে যাতে একজনও বৈধ ভোটার বাদ না পড়েন, সেই বিষয়ে তাঁর সদিচ্ছা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

তবে এই বৈঠক এবং ঋতব্রতর একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।