ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে পা রাখতেই ঘনিয়ে আসছে এক ডিজিটাল বিপর্যয়। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তো তৈরি হয়েছেই, এবার আশঙ্কা করা হচ্ছে সমুদ্রের অতলে থাকা সাবমেরিন ফাইবার অপটিক কেবল নিয়ে। যদি এই কেবলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ভারতসহ এশিয়া ও ইউরোপের বড় অংশ আক্ষরিক অর্থেই ‘অন্ধকারে’ ডুবে যেতে পারে।
টার্গেট যখন সমুদ্রের তলদেশ
লোহিত সাগরের বাব-এল-মান্দেব এবং পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী—এই দুই জলপথের নিচ দিয়েই গিয়েছে বিশ্বের ইন্টারনেটের মূল ধমনী। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অন্তত ২০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ কেবল গিয়েছে, যা এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের মধ্যে ডেটা আদানপ্রদান করে।
-
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালাচ্ছে।
-
আশঙ্কার বিষয় হলো, যুদ্ধের আবহে এই সাবমেরিন কেবলগুলি কাটলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামতির কোনো সুযোগ নেই। কারণ, কোনো টেকনিশিয়ান বা জাহাজ এখন ওই রণক্ষেত্রে ঢুকতে সাহস পাচ্ছে না।
ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
ভারতের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট কানেকশনের জন্য এই অঞ্চলটি লাইফলাইন। বিশেষ করে:
-
AAE-1, FALCON, গালফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এবং টাটা-TGN গালফ কেবল—এই পরিকাঠামো গুলি সরাসরি আক্রান্ত হতে পারে।
-
এর আগে ২০২৪ সালে হুথিদের হামলায় কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারতের ইন্টারনেটের গতি মারাত্মক কমে গিয়েছিল। এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।
ডিজিটাল বিপর্যয়ের অশনি সংকেত
যদি এই কেবলগুলি বিচ্ছিন্ন হয়, তবে প্রভাব পড়বে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে:
-
ব্যাঙ্কিং ও শেয়ার বাজার: আন্তর্জাতিক লেনদেন স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে।
-
AI ও ক্লাউড পরিষেবা: গুগল বা মাইক্রোসফটের মতো সংস্থা যারা এই অঞ্চলে বিপুল বিনিয়োগ করেছে, তাদের পরিষেবা বিঘ্নিত হবে।
-
জরুরি পরিষেবা: হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিমান চলাচল—সবকিছুই ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বড়সড় ধস নামতে পারে।
বিশেষজ্ঞের মত: জ্বালানি সংকটের চেয়েও বড় বিপদ হতে পারে ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’। কারণ আধুনিক বিশ্ব তেলের চেয়েও বেশি ডেটার ওপর দাঁড়িয়ে। একবার কেবল ছিঁড়লে তা ঠিক করতে কয়েকমাস সময় লেগে যেতে পারে।