ব্রেকের বদলে ভুল করে অ্যাক্সিলারেটরে পা! গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কলকাতায়

রাজ্যজুড়ে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক এক সড়ক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল খাস কলকাতা। নতুন গাড়ি চালানো শেখার উন্মাদনা এবং অনুশীলনের মাঝেই এক গৃহবধূর গাড়িসহ পুকুরে ডুবে করুণ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শুধু কেষ্টপুর এলাকাই নয়, গোটা রাজ্যজুড়ে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ওই মহিলার নাম সুমিত্রা দাস। তিনি কলকাতার কেষ্টপুর প্রফুল্ল কানন পশ্চিমের বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার সকাল পৌনে নটা নাগাদ। মৃতার স্বামী কৃষ্ণেন্দু দাস সম্প্রতি একটি নতুন চার চাকা গাড়ি কিনেছিলেন। সেই নতুন গাড়িটি চালানো শিখছিলেন তাঁর স্ত্রী সুমিত্রা দেবী। আগামী ২২ আগস্ট গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার জন্য তাঁর সরকারি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যেই তিনি নিয়মিত গাড়ি নিয়ে অনুশীলন করছিলেন। ঘটনার দিন সকালে সুমিত্রা দেবী প্রথমে তাঁর ছোট মেয়েকে স্কুটিতে করে স্থানীয় স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসেন। এরপর বাড়ি ফিরে স্কুটিটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে বাড়ির সংলগ্ন গ্যারেজ থেকে নতুন গাড়িটি বের করার জন্য যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, গ্যারেজ থেকে গাড়িটি বাইরে বের করার সময়ই ঘটে যায় বিপত্তি। শিক্ষানবীশ চালক হওয়ার কারণে সম্ভবত গাড়ির ব্রেক এবং অ্যাক্সিলারেটর বুঝতে মারাত্মক ভুল হয়েছিল তাঁর। গাড়ির ব্রেকের পরিবর্তে ভুলবশত তাঁর পা সজোরে পড়ে যায় অ্যাক্সিলারেটরের ওপর। এর ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চোখের পলকে গাড়িটি সোজা রাস্তা পেরিয়ে সামনের একটি গভীর পুকুরের মাঝখানে গিয়ে সজোরে পড়ে যায়। জলের গভীরতা বেশি থাকায় মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি তলিয়ে যেতে শুরু করে।
ঘটনাটি নজরে আসতেই স্থানীয় বেশ কয়েকজন সাহসী বাসিন্দা জীবন বাজি রেখে সঙ্গে সঙ্গে পুকুরের ঘোলা জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু জলের তোড় এবং গাড়ির দরজা আটকে যাওয়ার কারণে তাঁরা ওই গৃহবধূকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। এরপর খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানা এবং দমকল বাহিনীতে। দীর্ঘ প্রায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা কঠিন উদ্ধারকাজের পর পুলিশ ও দমকল কর্মীরা যৌথভাবে ক্রেনের সাহায্যে গাড়িটিকে পুকুরের মাঝখান থেকে উপরে তুলে আনে।
গাড়িটিকে জল থেকে তোলার পর উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ আধিকারিকরা দেখতে পান যে, গাড়ির পিছনের গেটের দিকে মুখ করে সিটের মাঝে অবস্থান করছিলেন ওই মহিলা এবং তাঁর পা তখনও স্টিয়ারিংয়ের কাছাকাছি আটকে ছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জলে গাড়িটি ডুবে যাওয়ার পর আতঙ্কে তিনি গাড়ির পিছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে আসার মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিলেন, কিন্তু জল ঢুকে দরজা আটকে যাওয়ায় শেষ রক্ষা হয়নি। জানা গিয়েছে, ওই পুকুরের জলের গভীরতা প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট ছিল।
যে পুকুরে গাড়িটি পড়েছিল, সেখানকার স্থানীয় এক বাসিন্দা গণমাধ্যমকে জানান যে মহিলা সম্প্রতি গাড়ি চালানো শিখছিলেন এবং গাড়িটি গ্যারেজ থেকে রাস্তার দিকে নিয়ে যাওয়ার সময়ই এই মারাত্মক ভুলটি ঘটে যায়। আকস্মিক এমন এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ পরিজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কলকাতার একটি মর্গে পাঠিয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।