ব্রহ্মোস কি এবার ইন্দোনেশিয়ার হাতে? প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বিপাক্ষিক সফরে বড় চমকের ইঙ্গিত

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’দিনের সরকারি সফরে ইন্দোনেশিয়া পৌঁছেছেন। এই সফরকে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার কৌশলগত অংশীদারিত্বের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে দেখছে কূটনৈতিক মহল। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক কেবল রাজনৈতিক সম্পর্কের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।
সফরের প্রাক্কালে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন, “ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং সভ্যতাগত ও সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত গভীর। এই সফর দু’দেশের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধনকে আরও মজবুত করবে।” দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি এবং বিশ্বের চতুর্থ জনবহুল দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে বহুল আলোচিত ‘ব্রহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি অগ্রাধিকার পেতে পারে। ভারত-রাশিয়া যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি এই সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের সক্ষমতা দিতে পারে। পাশাপাশি, সাইবার নিরাপত্তা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়েও দুই নেতা আলোচনা করবেন।
বাণিজ্যিক দিক থেকে বর্তমানে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। এই সফরকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশই তা ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাম অয়েল, কয়লা ও নিকেলের মতো খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়, যা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে, তথ্যপ্রযুক্তি (IT), ফার্মাসিউটিক্যালস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির নতুন দুয়ার খুলতে পারে এই সফর।
সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বালি দ্বীপের হিন্দু ও বৌদ্ধ সভ্যতার গভীর প্রভাব দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রমাণ দেয়। এই ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে পর্যটন ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান আরও বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের সরকার ভিসা সহজীকরণ এবং সরাসরি ফ্লাইট পরিষেবার মতো পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। সব মিলিয়ে, মোদীর এই জাকার্তা সফর ভারত-ইন্দোনেশিয়ার পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে আরও শক্তিশালী করবে, যা ভবিষ্যতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।