ব্রহ্মপুত্রের বুকে আকাশ ছুঁল জলের ঘূর্ণি! বিরল জলস্তম্ভের এই দৃশ্য দেখে শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা

ব্রহ্মপুত্রের বুকে আচমকাই দেখা মিলল এক অদ্ভুত ও বিরল দৃশ্যের। নদীর জল ঘূর্ণির আকারে ঘুরতে ঘুরতে সোজা উঠে গেল আকাশের দিকে। উপর থেকে মেঘের সঙ্গে যুক্ত হওয়া সেই সরু ও লম্বা জলস্তম্ভ দেখে চারপাশের মানুষের চোখ কপালে উঠেছে। মুহূর্তের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর দৃশ্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি এবিপি লাইভ বাংলা।
ঘটনাটি ঘটেছে অসমের বরপেটা জেলার বাঘবরের পাহাড়পুর এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্যামেরাতেই ধরা পড়েছে এই বিরল আবহাওয়াজনিত ঘটনা। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, ব্রহ্মপুত্রের বুক চিরে একটি বিশাল ঘূর্ণায়মান জলের স্তম্ভ সজা উপরে গিয়ে মেঘের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। দেখতে এটি অবিকল জলের টর্নেডো বা ‘ওয়াটারস্পাউট’ (waterspout)-এর মতো। বিশাল এই নদীর বুকে এমন অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখতে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র কৌতূহল ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জলভাগের ঠিক উপরে এমন ঘূর্ণায়মান স্তম্ভ তৈরি হওয়াকে আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ওয়াটারস্পাউট’ বলা হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট কিছু অনুকূল বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতিতে ঘূর্ণায়মান বাতাস ও জলকণার সমন্বয়ে এই ধরনের বিরল ঘটনা ঘটে থাকে। তবে ব্রহ্মপুত্রের মতো বিশাল ও প্রমত্ত নদীর বুকে এমন রোমহর্ষক দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। ফলে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা নিয়ে জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে নেটপাড়ায়।
এদিকে ব্রহ্মপুত্রের বুকে এমন অদ্ভুত জলস্তম্ভ দেখা যাওয়ার পরেই স্থানীয় সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও আশঙ্কা দানা বেঁধেছে। অনেকেরই দাবি, এটি হয়তো বড় কোনো আসন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বলক্ষণ। বিশেষ করে এই অদ্ভুত ঘটনার সঙ্গে প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও নানা মহলে জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এমন জলস্তম্ভকে কখনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হিসেবে ধরে নেওয়ার কোনো প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অর্থাৎ, ব্রহ্মপুত্রের বুকে এই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখা গিয়েছে বলেই যে বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্প আসন্ন—এমন দাবি করার পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এ ধরনের ‘ওয়াটারস্পাউট’ সাধারণত খুব বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয় না এবং কখন বা কোথায় এটি তৈরি হবে, তা আগে থেকে নির্ভুলভাবে অনুমান করাও প্রায় অসম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এমন ঘটনা চোখের সামনে দেখতে পেলে নদী বা অন্যান্য জলভাগে থাকা মানুষজনকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে নৌকা বা জলযানে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত জল ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নদীর তীরের কাছাকাছি থাকলে কোনো শক্তপোক্ত পাকা বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সবমিলিয়ে ব্রহ্মপুত্রের বুকে আচমকা তৈরি হওয়া এই বিরল জলস্তম্ভ এই মুহূর্তে সমগ্র অসমে অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির এই রহস্যময় ও ভয়ংকর রূপ ক্যামেরায় ধরা পড়তেই তা মুহূর্তের মধ্যে সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। দৃশ্য যতই আতঙ্কজনক হোক না কেন, এটিকে কোনোভাবেই ভূমিকম্পের নিশ্চিত সংকেত বা বার্তা বলে মনে করার কোনো কারণ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।