নেপালে ফের বাঁধ ভাঙার চরম আতঙ্ক! তিব্বতের হ্রদ উপচে পড়ার আশঙ্কায় জারি জরুরি সতর্কতা

প্রতিবেশী দেশ নেপালে প্রলয়ঙ্করী বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই ফের নতুন করে বাঁধ ভাঙার চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বতের দিকে অবস্থিত একটি উচ্চ পাহাড়ি হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর নেপাল প্রশাসন দ্রুত নতুন করে ভারী সতর্কতা জারি করেছে। নেপাল পুলিশের দেওয়া সরকারি বিববরণ অনুযায়ী, তিব্বত সংলগ্ন অংশে জলের একটি বড় বাঁধ পুনরায় ভেঙে পড়ার কারণে তীব্র বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় দুর্গত অঞ্চলে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত সমস্ত নিরাপত্তা কর্মী, উদ্ধারকারী দল এবং সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে অবিলম্বে নিরাপদ উচ্চভূমিতে সরে যাওয়ার জন্য কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সকালে নেপাল পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশটিতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হঠাৎ ভয়াবহ এই আকস্মিক বন্যায় ইতিমধ্যেই ৪৬৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। তবে উদ্ধারকারী কর্তাদের আশঙ্কা, মৃতের এই সংখ্যা আগামী দিনে আরও অনেকটাই বাড়তে পারে। কারণ, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বহু বিদেশি পর্যটক ও নাগরিকসহ প্রায় ১৪০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালি আধিকারিকদের সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবারের এই বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকে বিশ্বের ৩০টি ভিন্ন দেশের অসংখ্য বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) সংগৃহীত ও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নিখোঁজদের তালিকার মধ্যে শুধুমাত্র ২৮৮ জনই ভারতীয় নাগরিক। এর মধ্যে একটি প্রধান জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৭৩ জন কর্মীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। উদ্ভূত এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে নিখোঁজ ভারতীয়দের দ্রুত খুঁজে বের করতে এবং হিমালয় অধ্যুষিত এই প্রতিবেশী দেশটির উদ্ধারকার্যে সর্বাত্মক সহায়তা করতে নয়াদিল্লি সরাসরি কাঠমান্ডুর সঙ্গে একযোগে কাজ করে চলেছে। অন্যদিকে, নেপালের এই প্রলয়কাণ্ডে ব্যাপক প্রাণহানি ছাড়াও চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলেও বন্যায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিকূল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি সত্ত্বেও দুর্গত অঞ্চল থেকে এখনও পর্যন্ত ৪৯৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ৫৫৫ জন পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

এদিকে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, গত বুধবারের ভয়াবহ ভূমিধসের (Mudslide) জেরে নতুন করে একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছিল, যা থেকে মারাত্মক বন্যার নতুন বিপদ ঘনিয়ে এসেছে। আবহাওয়া সংক্রান্ত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, আগামী তিন দিন ধরে ওই এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই প্রশাসনকে নতুন করে এই কঠোর সতর্কতা জারি করতে হয়েছে। সরকারি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাগাতার বৃষ্টির কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওই হ্রদটিতে প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার নতুন জল জমা হতে পারে। এর ফলে হ্রদের বাঁধ সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা নীচের দিকে তীব্র বেগে জল নামিয়ে গ্যিরং পোর্ট (Gyirong Port) সহ বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চলকে আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে।