ব্যাগ গুছিয়ে আসার চরম হুংকার! দিল্লিতে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ দিল্লি পুলিশের!

মুম্বই ও বেঙ্গালুরুর পর এবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বড়সড় আন্দোলনের ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। আগামী ১০ অক্টোবর এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশের তরফে এই প্রস্তাবিত যন্তর মন্তর মার্চের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। আন্দোলনকারীরা যাতে দীর্ঘমোদী অবস্থানের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন, সেই মর্মে ভিনরাজ্য থেকে আসা কর্মীদের ব্যাগ গুছিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে একেবারে নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১০ অক্টোবর সিজেপির প্রস্তাবিত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী জুড়ে চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে একটি বিশেষ আউটরিচ প্রোগ্রাম বা গণসংযোগ অভিযান চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের হস্টেল ওয়ার্ডেন, পিজি (paying guest) মালিক এবং আবাসিক কল্যাণ সমিতির (RWA) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হচ্ছে। পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ১০ তারিখের এই আন্দোলনের কোনো আইনি বা প্রশাসনিক অনুমতি নেই। এছাড়া বিক্ষোভকারীরা যাতে কোনো ধরনের জমায়েতের জন্য বাস বা যানবাহন বুক করতে না পারেন, সেজন্য বাস অপারেটরদের ওপরও তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। দিল্লি সীমানার সমস্ত এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্টে নাকাচেকিং জোরদার করা হয়েছে এবং প্রতিটি গাড়িতে চলছে তল্লাশি। আন্দোলন মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে অতিরিক্ত ২০০ কোম্পানি সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স (CAPF) বা আধা সেনা চেয়েছে দিল্লি পুলিশ। সেই সঙ্গে মহিলা পুলিশকর্মীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুলিশ অফিসারদের জন্য বডিক্যাম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বিক্ষোভের পুরো সময়টি নিখুঁতভাবে রেকর্ড করতে পেশাদার ক্যামেরাম্যান ভাড়া করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, আগামী ১০ অক্টোবরের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর রাজনৈতিক পারদ এখন চড়তে শুরু করেছে।