‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি ভোটারের নাম বাদ!’ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মারাত্মক বিস্ফোরক কংগ্রেস!

নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ বৃহস্পতিবার এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় ১৩ কোটি নাম পুনরায় না জোড়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তাঁদের এই আন্দোলন ও প্রতিবাদ অবিরাম চালিয়ে যাওয়া হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে ইমরান মাসুদ বলেন, “যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং যাঁদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই বাদ পড়া মানুষের সংখ্যা খোদ বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি। যদি এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তবে গণতন্ত্রের আসল অর্থই বা কোথায় থাকে?” তিনি আরও যোগ করেন, যতদিন পর্যন্ত এই প্রশাসনিক বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ না হয় এবং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া না হয়, ততদিন এই লড়াই চলবে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ যেভাবে রাহুল গান্ধী সহ বিরোধী সাংসদদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে বাধা দিয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ উজ্জ্বল রমন सिंह। তিনি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যাকফুটে চলে গেছে এবং আতঙ্কিত। গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানিয়ে যন্তর-মন্তর যাওয়ার পথে যেভাবে পুলিশি বলপ্রয়োগ করে সাংসদদের আটক করা হয়েছে এবং প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছে, তা নজিরবিহীন। লোকসভার বিরোধী দলনেতার সঙ্গে এই ধরনের অগণতান্ত্রিক আচরণ সরকারের চরম ভয়েরই বহিঃপ্রকাশ।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদ ও পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতে এদিন কংগ্রেস এবং ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের অন্যান্য সমমনোভাবাপন্ন সাংসদরা একটি গুরুত্বপূর্ণ লাঞ্চ মিটিংয়ে অংশ নেন। বৈঠকের পর বিরোধী সংসদীয় নেতারা রাজঘাট অভিমুখে এক বিশাল মার্চ বা পদযাত্রার পরিকল্পনা করেছেন। এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভগীরথ চৌধুরী বিরোধীদের এই আন্দোলনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হতাশার ফল বলে কটাক্ষ করেছেন। সামগ্রिक পরিস্থিতি নিয়ে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গন এখন চরম উত্তপ্ত।