নানা পাটেকরের প্রয়াণ, অপূর্ণ থেকে গেল শিবপ্রসাদ-নন্দিতার ‘বেলাশেষে’-‘পোস্ত’ রিমেকের স্বপ্ন!

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘বেলাশেষে’ এবং ‘পোস্তর’ মতো সংবেদনশীল ও পারিবারিক আবেগঘন ছবিগুলি শুধু দর্শককেই নয়, মুগ্ধ করেছিল খোদ বলিউড তথা মারাঠি সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকরকেও। বাংলা বক্স অফিসে প্রভূত সাফল্যের পর ছবি দু’টি হিন্দি ও মারাঠি ভাষায় রিমেক করার কথা পাকা হলেও, এক অকাল দুর্যোগের কারণে তা শেষ পর্যন্ত আর বাস্তবায়িত হয়নি। বর্ষীয়ান অভিনেতার আকস্মিক প্রয়াণের পর ‘এই সময় অনলাইন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই আক্ষেপ ও অজানা স্মৃতির কথা ভাগ করে নিলেন সফল পরিচালক জুটি নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

যেভাবে শুরু হয়েছিল এই যোগাযোগের গল্প: পরিচালক জুটি জানান, কোনো এক মাধ্যম মারফত নানা পাটেকর বাংলা ছবি ‘বেলাশেষে’ এবং ‘পোস্ত’ দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। ছবি দুটির বিষয়বস্তু, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং প্রবীণ বয়সের নিঃসঙ্গতার মতো বিশ্বজনীন সুক্ষ্ম দিকগুলি তাঁর মনে গভীর রেখাপাত করেছিল। এরপর নিজে থেকেই তিনি এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। যখনই ছবি দুটির হিন্দি এবং মারাঠি সংস্করণে রিমেক করার প্রস্তাব তাঁর কাছে পৌঁছায়, তিনি পরম উৎসাহে তাতে সম্মতি জানান। ফোনালাপেও নানা ধরনের সিনেমা নিয়ে নানা পাটেকরের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল বলে জানান নির্মাতারা।

করোনার করাল গ্রাসে থমকে গেল বড় প্রজেক্ট: সবকিছু যখন পরিকল্পনা মতো একদম সঠিক দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ই বিশ্বজুড়ে আছড়ে পড়ে কোভিড-১৯ (Covid-19) অতিমারি। লকডাউন, শুটিংয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং গোটা বিনোদন জগতের চরম অনিশ্চয়তার জেরে ছবি তৈরির পুরো পরিকল্পনাটি বিশ বাঁও জলে চলে যায়। পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির কারণে পরবর্তীতে নানা পাটেকরের সঙ্গে আর এই প্রজেক্ট নিয়ে কাজ এগোনো সম্ভব হয়নি।

পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে সেই আক্ষেপের সুর স্পষ্ট ধরা পড়েছে। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “নানা পাটেকরের মতো একজন উচ্চমানের অভিনেতার আমাদের ছবির গল্প পছন্দ হয়েছিল—সেটাই ছিল অনেক বড় প্রাপ্তি। উনি আমাদের সঙ্গে কাজ করতে অত্যন্ত উৎসাহিত ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অতিমারি শুরু হয়ে গেল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছাল যে আমরা তাঁর সঙ্গে কাজটা আর করে উঠতে পারলাম না। আজ উনি আর নেই, এই আক্ষেপটা আমাদের মনে চিরকাল থেকে যাবে।”

পর্দার ‘প্রহার’-এর মেজর চৌহান কিংবা দুঁদে ক্যারেক্টার আর্টিস্ট নানা পাটেকর চিরকাল তাঁর দাপুটে অভিনয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন, কিন্তু বাংলা পরিচালকদের সঙ্গে তাঁর এই অধরা প্রজেক্ট সিনেপ্রেমীদের মনে এক চিরকালীন শূন্যতা ও দীর্ঘশ্বাস রেখে গেল।