বৌদির বাড়িতেই থাকতেন, পরকীয়ার জেরে নৃশংস খুন, খাটের তলায় কম্বল জড়ানো অবস্থায় মহিলার দেহ, পলাতক দেওর

পরকীয়ার বলি এক গৃহবধূ? উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙ্গায় নিজের বাড়িতেই খুন হলেন এক মহিলা। মঙ্গলবার সকালে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয় খাটের নিচ থেকে, কম্বল দিয়ে জড়ানো অবস্থায়। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নিহতের দেওর প্রদীপ দত্তকে খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক।
যা ঘটেছিল…
গোবরডাঙ্গার সাহাপুরের বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী মিঠু দত্ত। প্রায় ১০ বছর আগে তাঁর স্বামী নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর থেকে তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। সম্প্রতি, তাঁর দেওর প্রদীপ দত্ত, যিনি স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও মিঠুর বাড়িতে এসে থাকতে শুরু করেন। স্থানীয়দের দাবি, এরপর থেকেই দেওর-বৌদির মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
সোমবার রাত থেকে মিঠুর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর ছেলেরা বিভিন্ন জায়গায় মাকে খুঁজে না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে। মঙ্গলবার সকালে প্রদীপকেও বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই ঘর থেকে পচা গন্ধ বেরোতে শুরু করে। সন্দেহ হওয়ায় ছেলেরা প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন। খাটের নিচে উঁকি মারতেই কম্বলে জড়ানো একটি দেহ দেখতে পান তাঁরা।
নৃশংসভাবে খুন?
খবর পেয়ে গোবরডাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। খাটের নিচ থেকে মিঠু দত্তের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং মুখ ভারী কিছু দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মিঠুকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।
এই ঘটনায় মৃতার ছোট ছেলে সরাসরি কাকার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, “মা ও কাকার মধ্যে সম্ভবত কোনো কারণে ঝগড়া হয়েছিল। আমার কাকা মাকে খুন করে পালিয়েছে।” নিহতের এক আত্মীয়ের কথায়, দুই ছেলে বড় হওয়ার পর মিঠু এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। হয়তো এই নিয়েই প্রদীপের সঙ্গে ঝামেলা চলছিল।
বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার অতীশ বিশ্বাস জানিয়েছেন, “দেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাবরা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পলাতক দেওর প্রদীপ দত্তকে খোঁজা হচ্ছে। তাঁকে গ্রেফতার করলেই খুনের আসল কারণ জানা যাবে।” ঘটনার তদন্ত চলছে।