আড়িয়াদহকাণ্ডে চরম মোড়, মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ায় গ্রেপ্তার সাক্ষীই, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তুমুল বিতর্ক

আড়িয়াদহ মা-ছেলে মারধর কাণ্ডে এক চরম উলটপুরাণ ঘটেছে। মূল অভিযুক্ত জয়ন্ত সিং-এর বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, এবার তাঁকেই গ্রেপ্তার করল বেলঘরিয়া থানার পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঠিক কী ঘটেছে?
গ্রেপ্তার হওয়া সাক্ষীর নাম বিমল পাঁজা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়ন্ত সিংয়ের অনুগামী সুশোভন সরখেলকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, বিমল পাঁজা সুশোভনকে রাস্তায় পেয়ে মারধর করেন।
তবে বিমলের পরিবারের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের মতে, সুশোভন নিজেই মদ্যপ অবস্থায় এসে বিমলের পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিচ্ছিলেন। এলাকার মানুষ তা দেখতে পেয়ে সুশোভনকে ধরে চড়-থাপ্পড় মেরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিমলকে গ্রেপ্তার করলেও, কেন সুশোভনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের দাবি, সুশোভন আহত হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সুস্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উত্তপ্ত পরিস্থিতি
গত রবিবার রাতে ঘটনাটির সূত্রপাত। অভিযোগ, সুশোভন বাইকে করে এসে বিমল এবং তাঁর পরিবারকে হুমকি দিতে শুরু করেন। তখনই এলাকার লোকজন রুখে দাঁড়ান এবং সুশোভনকে মারধর করেন। এরপর পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে ফেসবুক লাইভে সুশোভন অভিযোগ করেন যে, বিমল পাঁজা ও তাঁর দলবল তাঁকে লোহার রড এবং আগ্নেয়াস্ত্রের বাট দিয়ে মারধর করেছে। তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, বিমল পাঁজা গ্রেপ্তারের আগে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, সুশোভন জামিনে ছাড়া পেয়েই সাক্ষীদের ভয় দেখাচ্ছেন। তাঁর উদ্দেশ্যই হলো হুমকি দিয়ে সাক্ষীদের দমানো, যাতে জয়ন্ত সিংয়ের জেল থেকে বের হওয়ার পথ সুগম হয়। তিনি বলেন, “পুলিশ কী করছে, তা বুঝতে পারছি না। যে অরাজকতা চলছে, তাতে আমি আতঙ্কে আছি।”
পুলিশের বক্তব্য
বারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (সাউথ) অনুপম সিং জানিয়েছেন, “হুমকি ও মারধরের দুটি অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদেরও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।”
প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে আড়িয়াদহে এক যুবক ও তাঁর মাকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় জয়ন্ত সিং ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে পুলিশ জয়ন্তকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে জেলেই রয়েছে। কিন্তু তার অনুগামীরা এখনো সক্রিয় এবং সাক্ষীদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।