বোলপুরে তৃণমূল নেতার গাড়ি লক্ষ্য করে ‘ডিম থেরাপি’! পুলিশের সামনেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ বিজেপি কর্মীদের

ভোট-পরবর্তী হিংসার জেরে অবশেষে গ্রেফতার করা হলো বোলপুরের বিতর্কিত তৃণমূল নেতা ইন্দ্রজিৎ রায় ওরফে হাড়ুকে। বুধবার তাঁকে যখন বোলপুর থানা থেকে মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখনই থানা চত্বরে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছুড়লেন ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা। পুলিশের নিরাপত্তার বলয় ভেঙে এই ‘ডিম থেরাপি’ ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ইন্দ্রজিৎ রায় রাজ্যের প্রাক্তন কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের বোলপুর শহর সভাপতির দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বোলপুর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কাউন্সিলর রুবি দাসের স্বামী ইন্দ্রজিৎ রায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বিজেপি নেতা সুনীল সাঁতরার বাড়ি ভাঙচুর ও তাঁকে হেনস্থার ঘটনায় দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে এই নেতার বিরুদ্ধে। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলেই দাবি ভুক্তভোগীদের।

সম্প্রতি রাজ্যে পালাবদলের পর সুনীল সাঁতরা বোলপুর থানায় ইন্দ্রজিৎ রায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এদিন তাঁকে গ্রেফতার করে। ধৃত তৃণমূল নেতাকে আদালতের পথে নিয়ে যাওয়ার খবর আগেই পৌঁছে গিয়েছিল বিজেপি কর্মীদের কাছে। তাই থানা চত্বরের বাইরে আগে থেকেই ডিম হাতে তৈরি ছিলেন তাঁরা। পুলিশের গাড়ি থানা থেকে বেরোতেই শুরু হয় ঝোড়ো গতিতে ডিম নিক্ষেপ। গাড়ির কাঁচ ও বডিতে আছড়ে পড়তে থাকে একের পর এক ডিম।

ঘটনার পর বিজেপি নেতা সুনীল সাঁতরা বলেন, “তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামীর অত্যাচারে আমরা দীর্ঘ সময় ঘরছাড়া ছিলাম। পুলিশ তখন তাঁদের কথায় চলত। আজ সেই পাপের শাস্তি পাচ্ছে সে।”

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিককালে রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহ তৈরি হওয়ার পর থেকে তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ‘ডিম ছোড়া’ একটি নতুন রাজনৈতিক ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই ঘটনায় একটা বড় উদ্বেগের দিক হলো—তৃণমূল নেতাদের নিশানা করতে গিয়ে অনেক সময়ই ডিম গিয়ে পড়ছে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ওপর বা পুলিশের গাড়িতে। অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ প্রশাসনকে পরিস্থিতির চাপে অসহায় দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রবণতা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা কর্তব্যরত পুলিশকে হেনস্থা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভোট-পরবর্তী হিংসার এই মামলায় ইন্দ্রজিৎ রায়ের গ্রেফতারি বোলপুরের রাজনীতিতে প্রথম কোনো তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আইনত এই নেতার বিচার প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।