ইতিহাসের সাক্ষী জন্তর মন্তর এবার অতীত! দিল্লির এই বিখ্যাত প্রতিবাদস্থল বন্ধ করার নেপথ্যে কোন বড় চাল?

দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর আর কখনোই বিক্ষোভ বা আন্দোলনের সাক্ষী থাকবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশের সাম্প্রতিক এক সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তে জাতীয় রাজধানীর এই বিখ্যাত চত্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রোটেস্ট সাইট’ বা আন্দোলনস্থলের তালিকা থেকে চিরতরে বাদ (ডিনোটিফাই) দেওয়া হয়েছে। শত শত বছর আগে রাজা সवाई জয় সিং দ্বিতীয় এই খগোলীয় মানমন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন, যা কালের পরিক্রমায় ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের असहमति (মতপার্থক্য) ও প্রতিবাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল। এখানেই ‘আমি বেঁচে আছি সাহেব’ তক্তি হাতে নিয়ে বছরের পর বছর লড়েছেন সন্তোষ মूरत সিং কিংবা মুंशी প্রেমचंदের ‘পুষ কি রাত’-এর হ্যালকু ও জবড়ার মতো প্রান্তিক মানুষরা।

দিল্লি পুলিশের সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে সমস্ত ধরনের বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক প্রতিবাদ কেবল দিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থিত তিনটি নির্দিষ্ট স্থানেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে। এগুলি হলো—পুরনো দিল্লির রামলীলা ময়দান, পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড এবং উত্তর দিল্লির বুরারি ময়দান। মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তরের সাথে এই নতুন স্থানগুলির দূরত্ব যথাক্রমে ৩ কিলোমিটার, ১৩.৫ কিলোমিটার এবং ৪৪ কিলোমিটার। প্রশাসনের দাবি, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে সরকারের এই কঠোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধীরা। ইতোমধ্যে দিল্লি হাইকোর্টে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র থেকে যদি প্রতিবাদের অধিকারই কেড়ে নেওয়া হয়, তবে দেশের সাধারণ ছাত্র, কৃষক ও শ্রমিকরা তাদের না বলা কথা বা ক্ষোভ প্রকাশের জন্য কোন দরজায় কড়া নাড়বে?