বেতন কম? চিন্তার কিছু নেই! মিউচুয়াল ফান্ডের এই বিশেষ ফর্মুলায় আপনিও হতে পারেন কোটিপতি

বিনিয়োগের জগতে পা রাখা যে কোনো সাধারণ মানুষেরই স্বপ্ন থাকে একদিন কোটিপতি হওয়ার। কিন্তু অনেকেরই ধারণা, কোটিপতি হতে গেলে চাই মোটা অঙ্কের মাসিক বেতন কিংবা বিশাল কোনো ব্যবসা। এই ভুল ধারণা আমাদের সঞ্চয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বাস্তবের অঙ্ক বলছে, আপনি যদি সঠিক শৃঙ্খলা মেনে নিয়মিত বিনিয়োগ করেন, তবে মাসে মাত্র ২,০০০ টাকা জমিয়েও অনায়াসেই কোটিপতি হওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে মূল চাবিকাঠি হলো ধৈর্য এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ‘সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’ বা SIP।

কোটিপতি হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো ‘কম্পাউন্ডিং’ বা চক্রবৃদ্ধি হারের জাদু। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারীদের অতীতে দু’অঙ্কের বিশাল রিটার্ন উপহার দিয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, বাজার সর্বদা ঝুঁকি সাপেক্ষ। তাই হুজুগে বিনিয়োগ না করে সুচিন্তিতভাবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। আপনার হাতে যদি ২৫ থেকে ৩৫ বছরের সময়সীমা থাকে, তবে ১ কোটির তহবিল গড়া কেবল স্বপ্নের বিষয় নয়, বরং একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য।

কীভাবে কাজ করে এই SIP ম্যাজিক?
ধরুন, আপনি প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ শুরু করলেন। যদি বাজার থেকে আপনি বার্ষিক গড়ে ১২ শতাংশ রিটার্ন পান এবং ৩৫ বছর ধরে এই বিনিয়োগটি অবিরত চালিয়ে যান, তবে হিসাবটি দাঁড়াবে চমকপ্রদ। আপনার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ৮.৪ লক্ষ টাকা। ৩৫ বছর পর চক্রবৃদ্ধি হারে সেই বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১.০২ কোটি টাকা। ম্যাচুরিটির সময় অর্থাৎ ৩৫ বছর শেষে এই তহবিলের ভ্যালু ১.১ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

অর্থাৎ, আপনার মোট ৮.৪ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ থেকে আপনি পেতে পারেন ১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ। এর জন্য প্রয়োজন শুধু ধারাবাহিকতা। মাঝপথে বিনিয়োগ বন্ধ করা বা আতঙ্কিত হয়ে টাকা তুলে নেওয়ার ভুলটি করা যাবে না।

দ্রুত লক্ষ্য পূরণের কৌশল: স্টেপ-আপ SIP
৩৫ বছর দীর্ঘ সময় মনে হলে আপনি গ্রহণ করতে পারেন ‘স্টেপ-আপ SIP’ (Step-up SIP) পদ্ধতি। এর অর্থ হলো, প্রতি বছর আপনার আয় বা বেতন বাড়ার সাথে সাথে বিনিয়োগের পরিমাণও কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া। এতে করে আপনি ৩৫ বছরের আগেই ১ কোটি টাকার লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, প্রতি বছর যদি আপনি বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ শতাংশ করে বাড়াতে থাকেন, তবে সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে আপনার সময় লাগবে অনেক কম।

মনে রাখবেন, বিনিয়োগের কোনো শর্টকাট নেই। মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের আগে বাজার পরিস্থিতি বুঝে এবং প্রয়োজনে আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিয়ে এগোলে আপনিও হতে পারেন আগামীর কোটিপতি। শৃঙ্খলাবদ্ধ সঞ্চয় এবং সময়ের সঠিক ব্যবহারই আপনাকে আর্থিক স্বাধীনতার পথে পৌঁছে দেবে।