বেতন একলাফে আকাশছোঁয়া হবে কি? ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে মুখ খুলল কেন্দ্র!

অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এর মাঝেই সংসদ ভবনে এই বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হলো। সরকারি কর্মী সংগঠনগুলির তরফে যে সমস্ত প্রস্তাব ও দাবি পেশ করা হয়েছে, তা বর্তমানে চিন্তাভাবনা ও আলোচনার স্তরে রয়েছে বলে স্পষ্ট করে দিল কেন্দ্র।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে সংসদের অন্দরে কী জানাল কেন্দ্র?
রাজ্যসভায় অষ্টম বেতন কমিশনের অগ্রগতি এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষভাবে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কর্মচারী সংগঠনগুলি পরিবারের সদস্যের সংখ্যা তিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ করার (বাবা-মা সহ) কোনো দাবি জানিয়েছে কি না।
এর জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরি জানান, কর্মী সংগঠনগুলির ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ও অন্যান্য দাবিদাওয়া সম্পর্কিত যাবতীয় রিপোর্ট নির্দিষ্ট টাইমলাইনের মধ্যেই জমা পড়ে যাবে। তবে, নির্দিষ্ট কোনো দাবির বিষয়ে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ সূচক কোনো উত্তর না দিলেও কেন্দ্র জানিয়েছে যে স্টেকহোল্ডারদের সমস্ত প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গেই বিচার্য বিষয়গুলির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্বাধীনভাবে কাজ করছে কমিশন
সংসদে কেন্দ্র আরও স্পষ্ট করেছে যে, অষ্টম বেতন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজের নিয়ম ও পদ্ধতিতে কাজ পরিচালনা করছে। কমিশনের টার্মস অব রেফারেন্স (Terms of Reference) অনুযায়ী, তারা কোন সুপারিশ বিবেচনা করছে বা আলোচনার সময় কী ধরনের পরামর্শ পাচ্ছে, সে সম্পর্কে প্রতি মুহূর্তে সরকারকে অবহিত করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা কমিশনের নেই। কাদের সঙ্গে মিটিং চলছে বা কী আলোচনা হচ্ছে, সেই সমস্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় বিস্তারিতভাবে কেন্দ্রকে জানানোর প্রয়োজনও নেই।
কবে জমা পড়বে সুপারিশ?
রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা নিয়ে কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বরের রেজোলিউশন অনুযায়ী, অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন গঠনের তারিখ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেবে। এই নির্ধারিত সময়সীমায় এখনও পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন করা হয়নি বা নতুন কোনো সংশোধিত ডেডলাইনও ঘোষণা করা হয়নি।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর?
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হলো একটি গুণক (Multiplier), যার মাধ্যমে নতুন বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার সময় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মূল বেতন বা বেসিক স্যালারি নতুন করে নির্ধারিত হয়। এটি কেবল মাসিক মাইনে নয়, বরং পেনশন এবং অন্যান্য অবসরকালীন সুবিধার ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে। বর্তমানে কিছু কর্মী সংগঠন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৮৩ বা তার কাছাকাছি রাখার দাবি তুলেছে। এই আবহে কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকেই এখন দেশের কোটি কোটি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীর নজর আটকে রয়েছে।