“বেছে বেছে বের করব…”-বাংলায় কি NRC-র সুর চড়ালেন শাহ? সীমাঞ্চল থেকে দিলেন বড় ইঙ্গিত!

মার্চ মাসেই রাজ‍্যে শুরু হচ্ছে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’। আর সেই মেগা সফরের প্রাক্কালেই প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের মাটি থেকে বাংলার রাজনীতিতে কার্যত পারদ চড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার বিহারের আরারিয়া জেলায় সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-এর এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিলেন তিনি।

অনুপ্রবেশকারীদের জন্য কড়া বার্তা অমিত শাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা। তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “বাংলায় নির্বাচন এগিয়ে আসছে এবং আমি নিশ্চিত যে সেখানে বিজেপিই সরকার গড়বে। আর ক্ষমতায় আসার পর আমাদের প্রথম কাজ হবে প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেওয়া।”

জনসংখ্যার ভারসাম্য ও জাতীয় নিরাপত্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, অনুপ্রবেশ কেবল একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তিনি অভিযোগ করেন:

  • অনুপ্রবেশকারীরা একটি নির্দিষ্ট এলাকার জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট করছে।

  • সাধারণ মানুষের রেশন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা তারা কেড়ে নিচ্ছে।

  • সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটছে।

শাহের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট—শুধুমাত্র ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নয়, বরং প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে বেছে বেছে দেশের বাইরে পাঠানোই হবে নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য।

লক্ষ্য শুধু বাংলা নয়, পুরো সীমাঞ্চল উল্লেখ্য, বিহারের সীমাঞ্চল এলাকাটিও অনুপ্রবেশ সমস্যার জন্য পরিচিত। শাহ জানান, বিহারেও এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাঁর কথায়, “বিহারে আমরা এই ইস্যুতে জনমত পেয়েছি। বিরোধীরা সমালোচনা করলেও সাধারণ মানুষ আমাদের উন্নয়নের এজেন্ডাকেই বেছে নিয়েছেন।” পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং অসম—এই চার রাজ্যকে জনতাত্ত্বিক বিপর্যয়ের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেন তিনি।

অমিত শাহের এই মন্তব্যের পর বাংলার রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ‍্যেই শুরু হয়েছে চাপানউতোর। মার্চের ‘পরিবর্তন যাত্রা’র আগে এই মন্তব্য বঙ্গে মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও উসকে দেবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy