ভোটের দামামা বাজার আগেই মাস্টারস্ট্রোক? পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন প্রকল্প ‘যুব সাথী’কে কেন্দ্র করে এখন সরগরম কলকাতার রাজপথ। মাসিক ১,৫০০ টাকা ভাতার আশায় হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতী যখন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই সেখানে ‘স্বেচ্ছাসেবক’ হিসেবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তৃণমূলের কর্মীরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারি প্রকল্পের ক্যাম্পগুলিকে কার্যত জনসংযোগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে শাসকদল।
ক্যাম্পে ‘তৃণমূল যোদ্ধা’দের দাপট কলকাতার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রে খোলা ৩৫টি ক্যাম্পে দেখা যাচ্ছে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। ল্যাপটপ, পেন আর স্ট্যাপলার হাতে আবেদনকারীদের ফর্ম পূরণে সাহায্য করছেন তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা। নিজেদের ‘তৃণমূল যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে তাঁরা শুধু ফর্ম পূরণই করছেন না, বরং আবেদনকারীদের পরিবারের অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের (যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা বার্ধক্য ভাতা) স্ট্যাটাসও খতিয়ে দেখছেন। অনেক জায়গায় ক্যাম্পের মধ্যেই বিলি করা হচ্ছে দলীয় সাফল্যের খতিয়ান লেখা ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ পুস্তিকা।
প্রকল্পের খুঁটিনাটি ও রাজনৈতিক অঙ্ক ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে চলা এই প্রকল্পে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকাররা মাসে ১,৫০০ টাকা করে পাবেন। প্রথমে ১৫ অগাস্ট চালুর কথা থাকলেও, ভোট এগিয়ে আসায় প্রকল্পের সময়সীমা এগিয়ে আনা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথম কয়েক দিনেই লক্ষাধিক ফর্ম বিলি এবং হাজার হাজার আবেদন জমা পড়েছে। অনলাইন ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন ক্যাম্পে এত ভিড়? উত্তর স্পষ্ট— সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছানো। এক তৃণমূল নেতার কথায়, “যত বেশি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে, ততই ভালো।”
তবে আবেদনকারীদের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভাতা পাওয়ার আনন্দ থাকলেও অনেকেরই আক্ষেপ, ১৫০০ টাকায় সাময়িক স্বস্তি মিললেও স্থায়ী কর্মসংস্থানের অভাব থেকেই যাচ্ছে। সরকারি প্রকল্পের আড়ালে এই হাই-ভোল্টেজ জনসংযোগ ২০২৬-এর নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।