বুলেটের বৃষ্টি উপেক্ষা করে মুম্বাই ফিরল ‘দেশ গরিমা’! মাঝসমুদ্রে ভারতীয় নৌসেনার বীরত্বের রোমহর্ষক কাহিনী

পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশি এখন কার্যত বারুদের স্তূপ। আমেরিকা ও ইরানের চরম উত্তেজনার মাঝে বিশ্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল জলপথ ‘স্ট্রেইট অফ হরমুজ’ এখন রণক্ষেত্র। ঠিক সেই সময়েই বিশ্বের নজর কেড়ে বীরদর্পে ৯৭,০০০ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ভারত ভূখণ্ডে পা রাখল অতিকায় ট্যাঙ্কার ‘দেশ গরিমা’। তবে এই জয়যাত্রা সহজ ছিল না; এর পেছনে রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনীর এক অভেদ্য সুরক্ষা বলয়।

একদিকে গুলি, অন্যদিকে ভারতীয় নৌসেনার ঢাল

গত ১৮ এপ্রিল, ২০২৬। হরমুজ প্রণালীর জল তখন অগ্নিগর্ভ। ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) গানবোটগুলো বিদেশি জাহাজ লক্ষ্য করে ক্রমাগত গুলি ছুড়ছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, একই সময়ে ভারতের আরও দুটি জাহাজ ‘সানমার হেরাল্ড’ ও ‘জাগ অর্ণব’ পিছু হটতে বাধ্য হয়। কিন্তু দমে যায়নি ‘দেশ গরিমা’।

শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার (SCI) এই ট্যাঙ্কারটিকে ঘিরে রেখেছিল ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ। নৌসেনার সেই কড়া পাহারার সামনে টিকতে পারেনি বিদেশি গানবোটগুলো। নিরাপদেই ওমান উপসাগর পেরিয়ে গত ২২ এপ্রিল মুম্বাই বন্দরে নোঙর করেছে ৩১ জন ভারতীয় নাবিক সহ এই জাহাজ।

কী এই ‘অপারেশন উর্জা সুরক্ষা’?

ভারত সরকারের এই বিশেষ অপারেশনের আওতায় বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরে অন্তত সাতটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • লক্ষ্য: ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।

  • সাফল্য: যুদ্ধের দামামা বাজার পর ‘দেশ গরিমা’ হলো দশম ভারতীয় জাহাজ, যা অক্ষত অবস্থায় এই বিপদসঙ্কুল পথ অতিক্রম করল।

কূটনৈতিক দড়ি টানাটানি

যদিও ইরান দাবি করছে যে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ ‘খোলা’ রয়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থাগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়ে আইআরজিসি-র লাগাতার গুলি চালানোর ঘটনা অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। বিদেশ ও জাহাজ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতীয় নাবিকদের জীবনের সুরক্ষা দেওয়াই কেন্দ্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বিশেষজ্ঞদের মত: > এই সফল যাত্রা কেবল জ্বালানি আমদানির জয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের ক্রমবর্ধমান নৌশক্তি ও বীরত্বের এক বলিষ্ঠ বিজ্ঞাপন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy