বুথ লেভেল অফিসারদের নিয়ে তরজা তুঙ্গে, শুভেন্দুর অভিযোগ বনাম কুণালের পাল্টা

আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) নিয়োগ এবং ভোটার তালিকা পরিমার্জন নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী বুথ লেভেল অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছেন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি তাঁর ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে এই চিঠি পোস্ট করার পর থেকেই বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে।

শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “অফিসারদের উপর চাপ সৃষ্টি করলে স্বচ্ছ নির্বাচন হবে কীভাবে? নির্বাচন কমিশনের উপর স্বতন্ত্র সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছেন মুখ্যমন্ত্রী। এটা গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত।” তিনি নির্বাচন কমিশনের স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলকে বিএলও-দের তালিকা সরবরাহের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বুথ নম্বর সহ এই তালিকা প্রকাশের দাবি তুলেছেন।

শুভেন্দু অভিযোগ করেছেন যে, ভোটার তালিকা পরিমার্জন শুরু হলে লক্ষ লক্ষ ‘অনুপ্রবেশকারী’ এবং ‘বাংলাদেশি’দের নাম বাদ পড়বে। তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ও ‘শরণার্থী’দের গুলিয়ে ফেলার অভিযোগ এনে বলেছেন, “SIR (সংশোধন, অন্তর্ভুক্তিকরণ, বাতিলকরণ) হলেই নাম বাদ যাবে।” বিরোধী দলনেতার আরও গুরুতর অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে বিডিও এবং এসডিও-রা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যোগসাজশ করে স্থায়ী কর্মী থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাডারদের বিএলও হিসাবে নিয়োগ করেছেন। এমনকি, ২৬ হাজার চাকরিচ্যুত ব্যক্তিকেও কোথাও কোথাও বিএলও হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তিনি বিএলও, এসডিও, ডিএম-দের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আপনাদের প্রতি ঘণ্টার কাজ নজরদারি করছি আমরা। সব ধামাচাপা পড়ে যাবে না।”

অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগকে ‘কল্পনাভিত্তিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি পাল্টা আক্রমণ করে বলেছেন, “মানুষ কী চায় ওরা বোঝে না। নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।” কুণাল ঘোষ জোর দিয়ে বলেছেন, “শুভেন্দুবাবুরা যে তালিকাতেই ভোট করুন, আড়াইশোর বেশি আসন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন।” তিনি শুভেন্দুকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “নির্বাচন কমিশনের কাজ নির্বাচন কমিশনকে বুঝতে দিন শুভেন্দু।”

এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন সকলের নজর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy