বীরভূমের বালি টাকায় কি তৃণমূলের ভোটের প্রচার? DM-কে বিস্ফোরক চিঠি বিজেপির

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই বীরভূমে চরম উত্তেজনা। এবার জেলার ‘বেআইনি’ বালিঘাট নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করল বিজেপি। জেলা জুড়ে রমরমিয়ে চলা বালির খাদানগুলি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিতে বীরভূমের জেলাশাসককে কড়া চিঠি দিলেন বিজেপি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে বীরভূমেও এবার সিবিআই (CBI) হানা দেওয়া উচিত।

তৃণমূলের নির্বাচনী ফান্ডের উৎস কি বালি? বিজেপি সভাপতির বিস্ফোরক অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনের প্রচারের খরচ জোগাড় করতেই জেলা জুড়ে বালি মাফিয়াদের দাপট বাড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। উদয়শঙ্করবাবু বলেন, “ভোটের আগে তৃণমূলের ফান্ড জোগায় এই বেআইনি বালিঘাটগুলি। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।”

নদীর বুকে তাণ্ডব: বিপন্ন পরিবেশ বীরভূমের অজয়, ময়ূরাক্ষী, কোপাই, দ্বারকা থেকে শুরু করে বক্রেশ্বর ও ব্রাহ্মণী— প্রায় প্রতিটি নদীবক্ষেই নিয়ম বিরুদ্ধভাবে বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে ইলামবাজার, নানুর, লাভপুর, সিউড়ি ও সাঁইথিয়ায় জেসিবি এবং নৌকোয় শক্তিশালী যন্ত্র বসিয়ে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বালি তোলা হচ্ছে। এর ফলে নদীর গতিপথ বদলানো ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

পাল্টা আক্রমণে তৃণমূল ও প্রশাসন: বিজেপির এই অভিযোগকে অবশ্য হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “বিজেপি মিথ্যাচারের রাজনীতি করে। অভিযোগ করলেই হয় না, প্রমাণ দিতে হয়।” অন্যদিকে, বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন জানিয়েছেন যে, জেলায় কোনওরকম বেআইনি কাজকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না। পুলিশ সুপার আমনদীপও দাবি করেছেন, পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে।

পশ্চিম বর্ধমানে কয়লা ও বালি নিয়ে ইডি-সিবিআই-এর তৎপরতার পর এবার বীরভূমেও কি একই ছবি দেখা যাবে? ভোট ঘোষণার মুখে এই নিয়ে জেলা রাজনীতিতে এখন জোর চর্চা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy