সাতপাকে বাঁধা পড়ার আগে আইনি গেরোয় নাজেহাল বীরভূমের এক যুবক। বিয়ের পিঁড়িতে বসার বদলে তাকে ছুটতে হলো ব্লক অফিসে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের নানুর ব্লকের খুজুটিপাড়া গ্রামে। পেশায় পাত্র রানা শেখ (কবির আকবর রানা) সোমবার সকালে যখন বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাকে হাজির হতে হয় SIR (Special Intensive Revision) শুনানিতে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দু’মাস আগে লাভপুরের এক পাত্রীর সঙ্গে রানার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। বিয়ের সমস্ত আয়োজন যখন তুঙ্গে, ঠিক তার তিন দিন আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি সরকারি নোটিশ পৌঁছায় রানার বাড়িতে। অভিযোগ, সেই নোটিশে রানার বাবা আলঙ্গীর শেখের সন্তান সংখ্যা নিয়ে চরম ভুল তথ্য দেওয়া ছিল। আলঙ্গীর শেখের বাস্তবে এক ছেলে ও এক মেয়ে থাকলেও, সরকারি কাগজে তার ৬ জন সন্তান রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যের অসঙ্গতি সংশোধন করতেই বিয়ের দিন শুনানিতে তলব করা হয় পাত্রকে।
সোমবার রানার বিয়ের দিন নির্ধারিত থাকলেও, উপায়ান্তর না দেখে বরযাত্রী নিয়ে বেরোনোর ঠিক আগে শেরওয়ানি পরেই নানুর ব্লক অফিসে হাজির হন রানা। সেখানে শুনানি পর্ব মেটানোর পর তড়িঘড়ি তিনি রওনা দেন লাভপুরের কামদপুর গ্রামের মণ্ডপের উদ্দেশ্যে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূমে শোরগোল পড়ে গেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সঠিক তথ্য যাচাই না করেই SIR শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রান করছে নির্বাচন কমিশন। বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানেও এই ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়রা।





