বীরভূম জেলার রামপুরহাট মহকুমার ময়ূরাক্ষী নদীর তীরে অবস্থিত কোটাসুর গ্রামটি তার নামে প্রাচীন রাজনৈতিক ও পৌরাণিক ঐতিহ্যের ছাপ বহন করে। এটি ময়ূরেশ্বর ২ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত এবং কুণ্ডলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অংশ।
নামের উৎপত্তি ও পৌরাণিক কাহিনি
স্থানীয় লোকমুখে এবং ঐতিহ্যে প্রচলিত আছে যে, কোটাসুরের নাম উদ্ভূত প্রাচীন ‘কৌটেশ্বর রাজ্য’ থেকে।
-
নামের রহস্য: ‘কৌটেশ্বর’ শব্দটি সম্ভবত “কোট” (অর্থাৎ কেল্লা বা দুর্গ) এবং ‘ঈশ্বর’ (শিব) থেকে এসেছে, যিনি এখানকার আরাধ্যা দেবতা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘কৌটেশ্বর’ থেকে ‘কোটাসুর’ নামটি বিবর্তিত হয়েছে।
-
মহাভারতকালীন সংযোগ: স্থানীয়দের বিশ্বাস, মহাভারতকালীন যুগে এখানে একটি রাজদরবার এবং অসুরকুলের সহাবস্থান ছিল। স্থানীয় লোককথায় এই অঞ্চলকে অসুর-রাজার সঙ্গেও যুক্ত করা হয়, যা এই নামের রহস্যময়তা বাড়িয়ে তোলে।
মদনেশ্বর শিব মন্দির ও বামদেবের কৃপা
কোটাসুরের প্রধান আকর্ষণ হল এখানকার মদনেশ্বর শিব মন্দির, যা প্রায় ৭০০-৮০০ বছরের প্রাচীন বলে মনে করা হয়।
-
মূল দেবতা: মূল শিবলিঙ্গের নাম মদনেশ্বর। এছাড়াও মন্দির চত্বরে মা কালী (কোটাসুরেশ্বরী), মহিষমর্দিনী দুর্গা, তারা মা এবং শীতলা দেবীর মতো দেব-দেবী আছেন।
-
বামদেবের সম্পর্ক: বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল তারাপীঠের সঙ্গে এই মন্দিরের গভীর সম্পর্ক। পুরাণ অনুসারে, সাধক বামদেব এখানেই প্রথম তারা মায়ের কৃপা লাভ করেন এবং পরে তারাপীঠে গিয়ে সাধনা করেন। এই দুটি স্থান বামদেবের জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
-
প্রাচীন বিশ্বাস: কথিত আছে, এখানে সত্যযুগে ভগবান শিব নিজেই মদনেশ্বর রূপে প্রকাশিত হয়েছিলেন। এমনকি মহাভারতের সময় পাণ্ডবরা অজ্ঞাতবাসের সময় এখানে এসে শিবের পুজো করেছিলেন বলেও স্থানীয় লোককথা প্রচলিত আছে।
গ্রামটি বীরভূমের ময়ূরেশ্বর থানার অন্তর্গত। সিউড়ি থেকে প্রায় ২৮ কিমি এবং বোলপুর থেকে প্রায় ৪০ কিমি দূরে অবস্থিত এই মন্দিরটি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুরাতত্ত্ব বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে অনেক সংস্কার করা হয়েছে। যারা শান্ত ও নির্জন পরিবেশে সাধনা করতে চান, তাদের জন্য তারাপীঠের কাছেই অবস্থিত কোটাসুর মদনেশ্বর মন্দির একটি আদর্শ স্থান।