বিহার বিধানসভা নির্বাচন, এনডিএ-র আসন বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে অমিত শাহের বিশেষ বৈঠক

২০২৫ বিহার বিধানসভা নির্বাচনের পটভূমিতে এনডিএ (NDA)-র আসন বণ্টন নিয়ে বড়সড় স্কুপ বেরিয়ে এসেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এনডিএ-র বন্ধু দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন, যেখানে ২৪৩টি বিধানসভা আসনের বণ্টনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
এই বৈঠকের খবরটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, কিছুদিন আগেই অমিত শাহ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের সঙ্গে ২০ মিনিটের একটি গোপন বৈঠক করেছেন। সূত্র জানাচ্ছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর পাটনার মৌর্যা হোটেলে হওয়া এই বৈঠকে আসন বণ্টনের রূপরেখা নিয়েই প্রধান আলোচনা হয়েছে। এটি ২০২৪ সালে নিতীশের এনডিএ-তে ফিরে আসার পর তাঁদের প্রথম বড় আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
ছোট শরিকদের তীব্র দাবি: আসন বণ্টন নিয়ে চাপ
অমিত শাহের এই উদ্যোগ বিহারের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে, যেখানে এনডিএ-র ছোট শরিক দলগুলোর আসন দাবি এখন তুমুল চাপ তৈরি করেছে:
লোকজনশক্তি পার্টি (রামবিলাস): নেতা চিরাগ পাসওয়ান প্রায় ৪০ থেকে ১৩৭টি আসনের দাবি করেছেন বলে জানা গেছে।
হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (এইচএএম): নেতা জিতেন রাম মাঝি কমপক্ষে ২০টি আসন চেয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা (আরএলএম): উপেন্দ্র কুশওয়াহার দলের জন্য প্রায় ৭টি আসন বরাদ্দ হতে পারে বলে জল্পনা।
২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৭৪টি এবং জেডিইউ ৪৩টি আসন পেয়েছিল। এবার এনডিএ-র লক্ষ্য হলো বিহারে ২২৫টি আসন জিতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা।
শাহের কৌশল ও ‘অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি’ ফ্যাক্টর
এনডিএ-র এই উদ্যোগ বিহার বিজেপির কৌশলগত প্রস্তুতিরই অংশ। জানা গেছে, অমিত শাহ ২৭ সেপ্টেম্বর ভাগলপুর, কাটিহার এবং সীমান্তালের আসনগুলো পর্যালোচনা করবেন, যেখানে ২০২০-এর ফলাফলের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচনের ফিডব্যাক নেওয়া হবে। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর তিনি দিল্লিতে বিহার বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ভোটার অধিকার যাত্রা ও আসন-ভিত্তিক সমীক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
নিতীশ কুমারের দুবার বিজেপি ছেড়ে যাওয়ার পর তাঁর ‘ভুল’ স্বীকার করে এনডিএ-তে ফিরে আসা এখন আসন বণ্টনের জটিলতা বাড়িয়েছে। তবে বিজেপি সূত্র বলছে, শাহ এবং নিতীশ আলোচনার মাধ্যমে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছবেন। অন্যদিকে, বিপক্ষ মহাগঠবন্ধন এই বৈঠককে এনডিএ-র ‘অভ্যন্তরীণ বিভেদ’ বলে অভিহিত করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বৈঠক এনডিএ-র একতা শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচনের আগে তাদের কৌশলকে নতুন গতি দেবে।